মৌরিতানিয়ার উপকূলে ১৬১ অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার

 প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মৌরিতানিয়ার উপকূলে ১৬১ অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মৌরিতানিয়ার উপকূল থেকে ১৭ শিশুসহ ১৬১ অভিবাসীকে সাগর থেকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় বড় উদ্ধার অভিযান।

মৌরিতানিয়ার কোস্ট গার্ড বৃহস্পতিবার জানায়, মঙ্গলবার সাগরে বিপদে পড়া একটি নৌকা থেকে এসব অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তারা দীর্ঘ যাত্রা ও অনিরাপদ নৌযানের কারণে শারীরিকভাবে খুবই ক্লান্ত ছিলেন।

কোস্ট গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, নৌকাটি গাম্বিয়ার রাজধানী বানজুল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রায় আট দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নৌকাটির সন্ধান পান এবং সবাইকে উদ্ধার করেন।

নৌকাটির ইঞ্জিনে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। উদ্ধার করা ১৬১ জনকে মৌরিতানিয়ার রাজধানী নুয়াকশটের একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত শুক্রবার মৌরিতানিয়ার কোস্ট গার্ড দেশটির আটলান্টিক উপকূলের কাছে ভেসে থাকা আরেকটি নৌকা থেকে ৪০ শিশুসহ ৩০০ জনের বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করে।

ওই নৌকাটিতেও নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার করার সময় অভিবাসীরা ‘কঠিন মানবিক পরিস্থিতির’ মধ্যে ছিলেন।

কাঠের তৈরি পিরোগ-ধাঁচের ওই নৌকাটি গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করেছিল। এতে ছিলেন ৩১৫ জন-সেনেগালের ১৯১ জন, গাম্বিয়ার ১২৩ জন এবং মালির একজন নাগরিক।

নৌকাটি মৌরিতানিয়ার অর্থনৈতিক রাজধানী নুয়াধিবুর মাছ ধরার বন্দরের কাছে উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারের সময় নৌকাটি সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ছিল।

তিনি বলেন, নৌকায় থাকা সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রযোজ্য আইন ও মানবিক বিধি অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে পাড়ি

দারিদ্র্য থেকে পালাতে বাধ্য হওয়া আফ্রিকার বহু মানুষ ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় ঝুঁকিপূর্ণ ও গোপন নৌপথ বেছে নিচ্ছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় অনেকে অনিরাপদ নৌযানে করে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত মাসে গাম্বিয়া থেকে প্রায় ১৯০ জনকে নিয়ে যাত্রা করা একটি নৌকা থেকে ১৪৪ জন মারা যান অথবা নিখোঁজ হন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানায়, প্রায় ২৫ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর ১৮ জুলাই নৌকাটি উদ্ধার করা হয়েছিল।

চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে মৌরিতানিয়ায় তাদের দল যে নৌকা পৌঁছানোর ঘটনা দেখেছে, এটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি।

অভিবাসীদের ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পথ আটলান্টিক রুট। এই পথ ঠেকাতে ২০২৪ সালে মৌরিতানিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি অংশীদারত্ব চুক্তি করে।

চুক্তির আওতায় সীমান্ত নজরদারি, সমুদ্রে উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো, মানব পাচারকারী চক্র দমন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ২১ কোটি ইউরো সহায়তার প্যাকেজ দেওয়া হয়।

তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই সমুদ্রপথে প্রাণহানি থামেনি। ২০২৪ সালে আটলান্টিক অভিবাসন রুট ব্যবহার করে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা যান।