ট্রাম্পের ডাকভোট আদেশ ফের আটকাল আদালত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে আবারও বাধা দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। বৃহস্পতিবার দেওয়া এই আদেশে অন্তত আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ স্থগিত হয়ে গেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রথম ডাকভোট পাঠানোর কথা রয়েছে আর মাত্র এক সপ্তাহ পর। এর ঠিক আগে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি সরকারের ওই নির্বাহী আদেশ দুই সপ্তাহের জন্য বাস্তবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুতই আপিল হতে পারে। এমনকি মামলাটি আবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারে। এর কয়েক দিন আগেই সর্বোচ্চ আদালত একটি প্রক্রিয়াগত সিদ্ধান্তে প্রশাসনকে আদেশটি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর সুযোগ দিয়েছিল।
ডেমোক্র্যাট ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলো সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত মেনে নতুন করে মামলা করার পর বৃহস্পতিবারের রায় আসে। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি আইনসম্মত কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বিচারক তালওয়ানি খুব আগেভাগেই বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছিলেন।
এরপর প্রশাসন ডাকভোটের ব্যালট যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ পৌঁছে দেবে কি না, তা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক বিধিমালা জারি করে। এর মধ্য দিয়ে আইনি লড়াইটি নতুন করে শুরু হয়েছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই টানাপোড়েনের বড় প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার ডাকযোগে ভোট দেন। নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ডাক বিভাগের নির্দেশনা মেনে নিজেদের ব্যবস্থা বদলানোর মতো পর্যাপ্ত সময় নেই।
ডাক বিভাগ জানিয়েছে, কোনো অঙ্গরাজ্যকে ডাকভোটের ব্যালট পাঠাতে হলে সেই রাজ্যকে কোন ভোটাররা ব্যালট পাবেন, তার তালিকা দিতে হবে এবং খামের নির্দিষ্ট নকশা ও বিন্যাস অনুসরণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবারের রায়ে বিচারক তালওয়ানি লিখেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন ব্যালট নকশা তৈরি, সেটির অনুমোদন নেওয়া, ব্যালট ছাপানোর ব্যবস্থা করা, নিজেদের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা হালনাগাদ করা, ডাক বিভাগের পোর্টাল ব্যবহারে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নাগরিকদের তথ্য ওই পোর্টালে আপলোড করার মতো কাজ করার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে সময় বা অর্থ—কোনোটিই নেই।
হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এ রায় নিয়ে মন্তব্য করেনি। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ডাকভোটের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নতুন শর্ত অসাংবিধানিক। তাঁদের যুক্তি, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর এবং কিছু ক্ষেত্রে কংগ্রেসের হাতে; প্রেসিডেন্ট বা ডাক বিভাগের হাতে নয়।
এর আগে একই যুক্তিতে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশও আদালতে আটকে দেওয়া হয়েছিল। গত বছর জারি করা ওই আদেশে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোটের বিরোধিতা করে আসছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে তাঁর পরাজয়ের জন্য তিনি ডাকভোটকে দায়ী করে আসলেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি নিজেও ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি ১ কোটি ডাকভোটের মধ্যে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে আনুমানিক মাত্র চারটিতে।
ক্ষমতায় ফেরার পর নির্বাচনসংক্রান্ত দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশ হিসেবে মার্চে ডাকভোটকে লক্ষ্য করে নতুন আদেশটি জারি করেন ট্রাম্প।
বিরোধীরা দ্রুত আদালতে মামলা করে। তবে প্রশাসনের যুক্তি ছিল, কীভাবে আদেশটি বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে তখনো কোনো বিধিমালা জারি হয়নি। তাই মামলাগুলো আগেভাগেই করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসির একটি মামলায় প্রশাসন প্রথমে এই যুক্তিতে জয় পায়। কিন্তু বোস্টনে বিচারক তালওয়ানি পৃথক দুটি মামলায় নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আদেশটি বাস্তবায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা ওই নিষেধাজ্ঞাগুলোর একটির কার্যকারিতা বাতিল করেন। এরপর অনিচ্ছাসত্ত্বেও তালওয়ানি দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞাটিও তুলে নেন।
পরে ডাক বিভাগ চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করলে বাদীপক্ষ নতুন করে মামলা করে। তাদের লক্ষ্য ছিল, এবার যেন নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়ন ঠেকানোর আরও স্থায়ী আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায়।