গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাত, ধ্বংস ত্রাণের গুদাম
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। গত বছরের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া ‘যুদ্ধবিরতি’ অব্যাহত থাকার মধ্যেই হামলা ও লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত ও কয়েকজন আহত হন। আল-শিফা হাসপাতালের এক চিকিৎসা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি জমায়েতে ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং তিনজন আহত হন।
আল-জাজিরা আরবির সংবাদদাতা নূর খালেদ জানান, খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর আগের হামলায় আহত আরও তিন ফিলিস্তিনি পরে মারা যান। তাঁদের দুজন সোমবারের হামলায় আহত হয়েছিলেন। অন্যজন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আহত হন।
শিশু ও নারীদের জন্য রাখা ত্রাণ ধ্বংস
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গাজার একটি গুদামও ধ্বংস হয়েছে। সেখানে শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ করা ছিল বলে জানিয়েছে মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (এমএপি)।
সংস্থাটি জানায়, বিস্ফোরণের শক্তিতে ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের বড় অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায় গুদামে থাকা সব ত্রাণসামগ্রী।
এমএপি বলেছে, গুদামে থাকা পুরো মজুতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, মানবিক সহায়তাকর্মী, ত্রাণকেন্দ্র এবং মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে।
গুদামটির মালিক স্থানীয় মানবিক সহায়তা সংস্থা আরদ এল ইনসান। এমএপির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংস্থাটি গাজার প্রায় ৬০টি চিকিৎসাকেন্দ্রে সহায়তা দেয়। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১০০ নারী ও শিশু সেবা পেয়ে থাকে।
আরদ এল ইনসানের প্রকল্প সমন্বয়কারী সাহার সালেম বলেন, পুরো মজুত হারিয়ে যাওয়া তাদের কার্যক্রমে বড় ধাক্কা। বিশেষ করে দুর্ভিক্ষের পরও শিশু ও নারীরা যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তাতে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি থাকলেও গাজার পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত কঠিন এবং শিশু ও নারীদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
সালেম জানান, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তাঁদের সংস্থার দুই সহকর্মী নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
অক্সিজেনের সংকটে স্বাস্থ্যব্যবস্থা
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে বলেছেন, জীবনধারণের মৌলিক প্রয়োজনীয়তার ‘সম্পূর্ণ ধস’ নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ইসরায়েল গাজায় হামলা বাড়িয়ে চলেছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতির কথা কাগজে-কলমে থাকলেও মানুষের জীবনে এর প্রতিফলন নেই।
আল-বুরশ জানান, গাজায় প্রায় ৩৪টি অক্সিজেন স্টেশনের মধ্যে এখন মাত্র ১২টি চালু রয়েছে। এর মধ্যে আরও কোনো একটি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেলে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে রোগীরা মারা যাবেন। এমন পরিস্থিতি তিনি চান না, যেখানে একজন চিকিৎসককে দুই রোগীর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে-কে অক্সিজেন পাবেন আর কে পাবেন না।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন
১৭ আগস্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের ‘গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়’। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার শর্ত অনুযায়ী হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা