ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় নিশানায় ৬০ প্রতিষ্ঠান

 প্রকাশ: ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় নিশানায় ৬০ প্রতিষ্ঠান ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন করে প্রায় ৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল বিক্রি, অস্ত্র সংগ্রহ ও সাইবার কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে।

সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ছয় মাসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর এই উদ্যোগ নিল ওয়াশিংটন।

বেসেন্ট বলেন, ‘এই স্বৈরাচারী শাসনকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে তেহরানকে একা করে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানকে তেল বিক্রি থেকে আয় করতে, অস্ত্র সংগ্রহ করতে এবং সাইবার অভিযান চালাতে সহায়তা করেছে।

ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ ব্যর্থ হবে। তাঁর দাবি, নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানের নিজস্ব কর্মসূচি রয়েছে এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বন্ধ করে ওয়াশিংটন তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।

কারা নিষেধাজ্ঞার নিশানায়

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন তালিকায় এমন কোম্পানি ও জাহাজ রয়েছে, যেগুলো ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সাইবার কার্যক্রম এবং তেল বিক্রির আয় বাড়াতে সহায়তা করেছে।

নতুন অভিযানের আওতায় পাঁচটি খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে-ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও জাহাজ পরিবহন।

ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান কীভাবে তেল পাচার করে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক, মধ্যস্থতাকারী ও আর্থিক চ্যানেল শনাক্ত করেছে তারা।

তালিকায় মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়াজুড়ে ২০টির বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত একটি সংগ্রহ নেটওয়ার্কও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক ভুয়া কোম্পানি, গোপন আর্থিক চ্যানেল ও বিভিন্ন পরিবহন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানের কাছে পরমাণু গবেষণা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য সংবেদনশীল প্রযুক্তি পৌঁছে দিয়েছে।

ইরান

ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী সরবরাহ মন্ত্রণালয় নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।

ইরানভিত্তিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান নোয়াভারান অ্যাক্সিস প্রাইভেট জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, যা বিআরই লাইন নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ইতিমধ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অর্গানাইজেশন অব ডিফেন্সিভ রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনে পণ্য পাঠাতে সহায়তা করেছে।

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ হোসেইন আসলানি, রেজা কাদখোদাই ও আরমান কাজাদিয়ানকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সাইবার কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হংকং

হংকংভিত্তিক এক ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে সুইট ওশান ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডকে ইরানের মালেক আশতার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির জন্য সংবেদনশীল সরঞ্জাম সংগ্রহে মধ্যস্থতার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত আরপিটি টেকনোলজি লিমিটেড ও শেনজেন সুইট ওশান টেকনোলজিও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।

ফেইলি, মিনভুর, ফেইসু ও গুসকা নামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেও ইরানের একাধিক ব্যবহারকারীর জন্য পণ্য সংগ্রহের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকার অভিযোগে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ইরানের ‘গোপন ছায়া ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের অর্থ লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তিয়ানই টেকনোলজি ও এমটি ট্রেডিং অ্যান্ড লজিস্টিকস এইচকে-কে শেনজেন সুইট ওশানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

হংকং নিবন্ধিত জাহাজ কোম্পানি শিপঅয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বহনকারী জাহাজকে জ্বালানি ও অন্যান্য সেবা দিতে সমন্বয় করেছে।

স্কাই অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এশিয়া, ভিয়েনা শিপিং ও রিকোয়েজা গ্রুপও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

ইরানের পরমাণু, ক্ষেপণাস্ত্র ও তেল বিক্রির নেটওয়ার্কে পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও জাহাজ চলাচলে সহায়তার অভিযোগে চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই নেটওয়ার্কের অন্যতম কেন্দ্র শেনজেন সুইট ওশান টেকনোলজি। প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষার যন্ত্র, গবেষণাগারের সরঞ্জাম, অপটিক্যাল ও ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহ করে এবং ইরানি ক্রেতাদের হয়ে পণ্য সংগ্রহের কাজ করে বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তিয়ান জিয়ানবাইকেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

শেনজেন হুয়ামেই লিয়ানইউন ইন্টারন্যাশনাল লজিস্টিকসকে চীনে বিআরই লাইনের নির্ধারিত সেবাদাতা হিসেবে কাজ করার অভিযোগ করা হয়েছে। শেনজেন বসিতং লজিস্টিকস, বসিতং সাপ্লাই চেইন শেনজেন এবং লিলিমুন নেভিগেশনকেও তালিকাভুক্ত করা হয়ে

ইরানের জ্বালানি খাতে কাজ করা অথবা আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মালিকানাধীন কয়েকটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।

অ্যাজিউর শিপিং পিটিই লিমিটেডের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মালিক সিঙ্গাপুরভিত্তিক মানসুর তায়াবভাই গান্ধীকেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মালিকানাধীন ট্রান্স আর্কটিক গ্লোবাল মেরিন সার্ভিসেস ও আর্ক চার্টারিংও তালিকায় রয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওয়েলব্রেড ক্যাপিটাল এবং সুইজারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির হয়ে কাজ করেছে।

অন্যান্য দেশ

মালয়েশিয়ার ভাস্ট মার্ট এসডিএন বিএইচডির বিরুদ্ধে হংকংয়ের সুইট ওশানে একাধিকবার অর্থ পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জাহাজ কোম্পানি এস্টানিকা ট্রেডিং লিমিটেডকে গাম্বিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ পরিচালনার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি ইরানের কয়েক লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করেছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।

ফ্রান্সের রান্নার তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লা নিভেরনিজ দে রাফিনাজ এসএএসও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ওয়েলব্রেড ট্রেডিং।

সিরিয়ার নাগরিক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আহমেদ সুহাইল ফাত্তুহকে ইরানের ‘ছায়া নৌবহরের’ দালাল হিসেবে কাজ করার অভিযোগ করা হয়েছে।

ইউক্রেনের ক্ষেত্রে আমিরাতভিত্তিক ব্যবসায়ী ইভান ওবুখভের বিরুদ্ধে ইরানের ছায়া নৌবহরের হয়ে মধ্যস্থতা করার অভিযোগ রয়েছে।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের সিফরা শিপিং কোম্পানিও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বতসোয়ানার পতাকাবাহী সিফরা জাহাজ পরিচালনা করত। জাহাজটি ইরানের কয়েক লাখ ব্যারেল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও ইথিলিন পরিবহন করেছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।

গ্রিসের নাগরিক আলমপার্তোস সোরিস ও জর্জিওস সোরিসকে শিপঅয়েল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কোন কোন দেশ প্রভাবিত

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে ইরান, চীন ও হংকং, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সিরিয়া, ইউক্রেন ও গ্রিসের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

তবে চীনের যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের নতুন তালিকায় রাখা হয়নি।

বেসেন্ট ভবিষ্যতে কোন কোন দেশ দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বা তা কবে কার্যকর হবে, তা জানাননি। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময় দেবে ওয়াশিংটন।

বেসেন্টের ভাষায়, ‘আমি কেন বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে উড়িয়ে দিতে চাইব?’

চীনকে এই পর্যায়ে ছাড় দেওয়ার পেছনে বড় কারণ হতে পারে ইরানের তেল বাণিজ্যে বেইজিংয়ের ভূমিকা। কয়েক বছর ধরে চীন ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বড় সরবরাহকারীও চীন। ফলে বেইজিংকে সরাসরি চাপে ফেললে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশকে নেতৃত্ব দেবেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তবতা সরকার অস্বীকার করছে না। তবে বিচক্ষণতা ও জাতীয় ঐক্য ধরে রেখে ইরান এই কঠিন পরিস্থিতিও পার হয়ে যাবে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক যুদ্ধের বদলে অর্থনৈতিক যুদ্ধের আশ্রয় নেওয়াই প্রমাণ করে যে যুদ্ধক্ষেত্রে তারা পরাজিত হয়েছে।

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলী আকবর দারেইনি মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে ইরান এতটাই অভ্যস্ত যে নতুন তালিকা দেশটির অর্থনীতিকে বড় ধরনের বাধার মুখে ফেলতে পারবে না।

তাঁর দাবি, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার কৌশলে ইরানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলে তিনি মনে করেন।

চীনের আপত্তি

চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরান-সংকটের সমাধান হবে না।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান মঙ্গলবার বলেন, চীন ও ইরানের সহযোগিতা সব সময় আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে হয়েছে এবং তাতে বাইরের কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, একতরফা অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা চীন বহুবার জানিয়েছে। নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবেক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ও মার্কিন আইনজীবী আলফ্রেড-মরিস দে জায়াসও মনে করেন, নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কিছুটা চাপ যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই ফিরে আসতে পারে।

তাঁর মতে, অন্য দেশগুলোর ওপর মার্কিন চাপ বাড়তে থাকলে অনেক দেশই ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ ইতিহাস

১৯৭৯ সালের বিপ্লবে যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত শাসক রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও তেহরানের ওপর বিভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করেন। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে যুক্ত ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবং তিনটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকও ছিল।

২০১৫ সালে ইরান যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অন্য চার স্থায়ী সদস্য, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করে। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর শুরু হয় ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অভিযান। পুনরায় ইরানের তেল রপ্তানি, জাহাজ চলাচল ও আর্থিক খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এবারের নিষেধাজ্ঞা সেই দীর্ঘ অর্থনৈতিক চাপেরই আরও বিস্তৃত রূপ, যেখানে ইরানের পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদেরও সরাসরি নিশানায় নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা