নির্বাচনের উত্তাপে ব্রাজিল: প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে লুলা-ফ্লাভিওর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

প্রথম দফায় লুলা এগিয়ে থাকলেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান মাত্র ১ শতাংশ পয়েন্ট

 প্রকাশ: ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

নির্বাচনের উত্তাপে ব্রাজিল: প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে লুলা-ফ্লাভিওর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৬ লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারো

শাহনূর রুমেন | সাও পাওলো (ব্রাজিল)

ব্রাজিলে ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সর্বশেষ জনমত জরিপে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ভোটে দুই প্রার্থীর ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টে।

সোমবার প্রকাশিত বিটিজি প্যাকচুয়াল–নেক্সাসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার নির্বাচনে লুলা ৪১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি সমর্থন রয়েছে ৩৭ শতাংশ ভোটারের। দুই প্রার্থীর ব্যবধান চার শতাংশ পয়েন্ট হলেও জরিপের দুই শতাংশ পয়েন্টের ভুলসীমার কারণে লড়াইটি এখনো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। 

তবে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য লড়াইয়ে ব্যবধান আরও সংকুচিত হয়েছে। জরিপে লুলার পক্ষে ৪৬ শতাংশ এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে ৪৫ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে। মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান জরিপের ভুলসীমার মধ্যেই রয়েছে। ফলে বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফায় দুই প্রার্থীর মধ্যে কার্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।


বিটিজি প্যাকচুয়াল–নেক্সাস জরিপটি ২১ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬ জন ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। জরিপের ভুলসীমা দুই শতাংশ পয়েন্ট এবং এটি ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত হয়েছে।

তৃতীয় শক্তির জন্য কঠিন সমীকরণ

লুলা ও ফ্লাভিওর বাইরে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্যান্য প্রার্থীরা এখনো ভোটারদের বড় অংশের কাছে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। একই জরিপে রোনালদো কাইয়াদো ৫ শতাংশ এবং রোমেউ জেমা ও রেনান সান্তোস ৩ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছেন। অগাস্টু কুরি পেয়েছেন ২ শতাংশ এবং সামারা মার্টিন্স ১ শতাংশ।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পরও তৃতীয় শক্তির প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের প্রচারণা এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার তৃতীয় সারির প্রার্থীদের কোনো প্রচারণা উপকরণ বা প্রচারণামূলক উপস্থিতি দেখেছেন। ফলে লুলা ও ফ্লাভিওকে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

লুলা বনাম বলসোনারো পরিবারের লড়াই

২০২৬ সালের নির্বাচন ব্রাজিলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে। লুলা চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে লড়ছেন। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফল ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক আরেকটি ডেটাফোলহা জরিপেও লুলা সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফায় ফ্লাভিওর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন—লুলার ৪৭ শতাংশের বিপরীতে ফ্লাভিওর সমর্থন ছিল ৪৩ শতাংশ। তবে এই ব্যবধানও আগের জরিপের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই এখন আর একতরফা নেই। 

সামনে আরও উত্তেজনাপূর্ণ প্রচারণা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হবে ৪ অক্টোবর। কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। 

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যকার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, করনীতি, সামাজিক নীতি এবং ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবকিছুই নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান জরিপের সবচেয়ে বড় বার্তা হলো—লুলা এখনো প্রথম দফায় এগিয়ে থাকলেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফায় ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে ব্যবধান কার্যত একেবারে কমে এসেছে। ফলে অক্টোবরের নির্বাচন শুধু একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই নয়; এটি ব্রাজিলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, সেই প্রশ্নেরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে।