দক্ষিণ সুদানে সশস্ত্র হামলায় দুই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ সুদানে সশস্ত্র হামলায় জাতিসংঘের দুই শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দেশটিতে সরকারি বাহিনী ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে সোমবার শান্তিরক্ষীদের একটি টহলদলের ওপর এ হামলা চালানো হয়।
জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশন (ইউএনএমআইএসএস) জানিয়েছে, জংলেই রাজ্যের পাজুটের দিকে যাওয়ার সময় শান্তিরক্ষীদের একটি টহলদলের ওপর সশস্ত্র ব্যক্তিরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় জাতিসংঘের দুই শান্তিরক্ষী নিহত হন।
নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিচয় ও জাতীয়তা এখনো প্রকাশ করেনি জাতিসংঘ। হামলায় আরও তিন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দক্ষিণ সুদানের দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘ মিশনের সঙ্গে কাজ করা বেসামরিক কর্মীও রয়েছেন।
হামলার পর ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ইউএনএমআইএসএসের পক্ষ থেকে ‘কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স’ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউএনএমআইএসএসের প্রধান আনিতা কিকি গবেহো বলেন, দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত জাতিসংঘের কর্মীদের ওপর এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দক্ষিণ সুদানে বাড়ছে সহিংসতা
চলতি বছর দক্ষিণ সুদানে মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে মানবিক সহায়তাকর্মী ও তাদের স্থাপনার ওপর ৪৫০টির বেশি হামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
এ বছর দেশটিতে অন্তত ৩৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। পুরো ২০২৫ সালে এ ধরনের হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৩১ জন।
সরকারি বাহিনী ও বিরোধী নেতা রিয়েক মাচারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই সহিংসতা বাড়ছে। একসময় দক্ষিণ সুদানের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকা মাচারকে গত বছর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মুখোমুখি। তবে এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মাচার।
ভেঙে পড়ছে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি
দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও রিয়েক মাচারের মধ্যে ২০১৮ সালে ক্ষমতা ভাগাভাগির যে চুক্তি হয়েছিল, সেটি এখন কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ ঠেকাতেই আট বছর আগে ওই চুক্তি করা হয়েছিল।
গত ডিসেম্বর থেকে দেশটির সংঘাত আরও তীব্র হয়। ওই সময় বিরোধী বাহিনী জংলেই রাজ্যে সরকারি বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান দখল করে নেয়। এরপর সরকার বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়।
সরকার ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানালেও দেশটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আবারও পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলোচনায় ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
দক্ষিণ সুদানের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও রিয়েক মাচারকে আলোচনায় ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রও চাপ দিয়ে আসছে।
চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সংলাপ শুরুর আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, দক্ষিণ সুদানে শান্তি ধরে রাখতে এবং নতুন করে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: আলজাজিরা