প্যারিসে ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি যুবরাজ

 প্রকাশ: ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

প্যারিসে ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি যুবরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্যারিসে স্বাগত জানাতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

রোববার সন্ধ্যায় প্যারিসে এস্পোর্টস বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে এমবিএসকে স্বাগত জানাবেন ম্যাক্রোঁ। ভিডিও গেম থেকে দাবা-বিভিন্ন প্রতিযোগিতা নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট এবারই প্রথম সৌদি আরবের বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সোমবার দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও একটি ব্যবসায়িক ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন তাঁরা।

আলোচনায় থাকবে জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্য

বৈঠকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে জ্বালানি পরিবহনের নতুন পথ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে নতুন পাইপলাইন, পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিকল্প বন্দর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয় রয়েছে।

এর পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ, গাজা ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, লেবানন এবং সিরিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।

ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়েও দুই নেতা কথা বলবেন। ম্যাক্রোঁর এক উপদেষ্টা বলেছেন, ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, ‘কীভাবে এর সমাধান হবে, তা দেখা কঠিন।’

সোমবার স্বাস্থ্য, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে কয়েকটি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সমীকরণ

এমবিএসের এবারের প্যারিস সফর সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা কূটনীতির প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করার পর এটাই যুবরাজের প্রথম বিদেশ সফর।

চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ওয়াশিংটনের ওপর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে সৌদি আরবের বিকল্প অংশীদার বাড়ানোর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় দেশগুলো যখন মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছে, তখনই এই উদ্যোগ সামনে এসেছে।

ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোর অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। একই সময়ে সৌদি আরব ফ্রান্সের অর্থনীতিতে নিজেদের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

সম্পর্ক জোরদারের ধারাবাহিকতা

প্যারিসে এমবিএসের এটি তৃতীয় সফর। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে তিনি ফ্রান্স সফর করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যাক্রোঁর সৌদি আরব সফরের সময় দুই দেশ সৌদি-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারত্ব পরিষদ গঠন করেছিল। এবারের সফর সেই সম্পর্ক আরও জোরদারের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই নেতা সর্বশেষ এপ্রিলে ইসলামাবাদে দেখা করেছিলেন। তখন ইরান যুদ্ধের অবসানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সে সময় দুই নেতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ’ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হন।

সৌদি আরবের আয়োজনে ২০৩০ সালের এক্সপো এবং ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপও সোমবারের আলোচনায় স্থান পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা