যুদ্ধের মধ্যেই জাতীয় পতাকা দিবস পালন ইউক্রেনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পঞ্চম বছরে জাতীয় পতাকা দিবস পালন করেছে ইউক্রেন। রোববার দেশটির বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দেশাত্মবোধক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
রাজধানী কিয়েভের অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা ‘সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়গুলোর প্রতীক’ এবং ইউক্রেনের অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করা হাজারো সেনার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সামরিক ব্যান্ড দেশাত্মবোধক ও লোকগানও পরিবেশন করে।
কিয়েভের অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও অংশ নেন। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি ও পার্লামেন্টের স্পিকার রুসলান স্তেফানচুকের সঙ্গে তাঁকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোও পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভেও সামরিক সদস্য ও তাঁদের পরিবারের লোকজন জাতীয় পতাকা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেনাসদস্যরা সেখানে পতাকার প্রতি সম্মান জানান এবং আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা দিবস ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশটির স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক দিন আগে দিবসটি পালিত হয়।
ইউক্রেনের পতাকায় ওপরের অংশে নীল এবং নিচে হলুদ রং রয়েছে। নীল আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ গমের ক্ষেতের প্রতীক হিসেবে এই দুই রঙের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
নীল-হলুদ পতাকার ইতিহাসও দীর্ঘ। অন্তত এক হাজার বছর ধরে এই দুই রঙের ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯১ সালে ইউক্রেন স্বাধীনতা অর্জন করলে নীল-হলুদ পতাকা আবার জাতীয় পতাকার মর্যাদা পায়।
যুদ্ধের মধ্যে জাতীয় পতাকা দিবস এবার ইউক্রেনের মানুষের কাছে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও সামনে এসেছে।
সূত্র: আলজাজিরা