ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সিডিএফ মুনির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরান সফরে যাচ্ছেন। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করাই তাঁর সফরের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে তেহরান।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আসিম মুনির একটি সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। সফরে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করবেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের ‘শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এ সফরের উদ্দেশ্য।
ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে রয়েছে, ঠিক সেই সময় আসিম মুনিরের তেহরান সফর হচ্ছে। সোমবার ইরানের ওপর আরোপিত হতে যাওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন কর্মকর্তারা এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটির সঙ্গে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। তেহরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে অনুমতি ছাড়া চলাচলের চেষ্টা করা তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার হুমকি দিয়েছে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতিও ব্যাপক চাপে রয়েছে।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদ সক্রিয় হয়।
যুদ্ধ শুরুর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করে পাকিস্তান।
এই মধ্যস্থতার ধারাবাহিকতায় ১৭ জুন জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এতে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পরে দুই দেশের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হলেও পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আসিম মুনির ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি একাধিকবার ইরান সফর করেছেন।