ইরান যুদ্ধ চললেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের আশা রিপাবলিকানদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাসী হাউস স্পিকার মাইক জনসন। তবে যুদ্ধ তার আগেই শেষ হলে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য তা সহায়ক হবে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসনকে প্রশ্ন করা হয়, নভেম্বরেও যুদ্ধ চলতে থাকলে রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই।’ তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর ভোটের আগে যুদ্ধের বিষয়টি মিটে গেলে তা তাদের জন্য ‘সহায়ক’ হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জনসন বলেন, যুদ্ধ শেষ না হলেও রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সাপের মাথা কেটে ফেলেছে’ এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানো প্রয়োজন ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই দেশটির বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে। তবে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত রিপাবলিকানদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন ভোটার যুদ্ধ বন্ধ করার পক্ষে। এমনকি রিপাবলিকানদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও সংঘাতের অবসান চায়।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়েছে। সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটির জাতীয় ঋণও বাড়ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানে হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, দেশটির আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কয়েকশ বেসামরিক মানুষ নিহত হন।
এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এপ্রিলে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরাসরি লড়াই অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ইরানের ওপর ‘চূর্ণকারী’ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর চাপের আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও উদ্বেগ বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, মার্কিন বাহিনী প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে।
তবু যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে রয়েছে। যুদ্ধের আগে যা ছিল ৩ ডলারেরও কম।
রোববারের সাক্ষাৎকারে জনসন হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ধাপে ধাপে কাজ শেষ করছে’। তাঁর ভাষায়, আলোচনার টেবিলের অপর পাশে থাকা ইরানিদের বিশ্বাস করা যায় না। তবে মিত্র দেশগুলো পরবর্তী ধাপে সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধের পক্ষে দেওয়া যুক্তির সঙ্গে অবশ্য গত বছরের মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান তখন আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে-এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা