গিনিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত অন্তত ৩০

 প্রকাশ: ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গিনিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত অন্তত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গিনির রাজধানী কোনাক্রির সবচেয়ে বড় ময়লার ভাগাড়ে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধসের মতো ধসে আশপাশের কয়েকটি ঝুপড়ি চাপা পড়ে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভোর ৩টার দিকে রাজধানীর বেসিয়া জেলার দার-এস-সালাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারী বৃষ্টির পানির চাপে ভাগাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে এবং কাছাকাছি থাকা কয়েকটি ঘর চাপা দেয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ধসে পড়া আবর্জনার স্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে খননযন্ত্র ব্যবহার করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁর উপস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালান। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে উদ্ধারকাজ দেখছিলেন।

দার-এস-সালাম এলাকার প্রধান লঁসিনে সিলা এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করেছিলেন। সরকারি মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশের আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনাস্থলটি রোববারই বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। সামরিক প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের স্যানিটেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল বালদে মামাদু বাইলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভাগাড়টি ঘিরে আগে থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ধসের আশঙ্কায় সরকার সম্প্রতি ওই এলাকার আশপাশ থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছিল।

গিনির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী রাজনীতিক সেলু দালেইন দিয়ালো, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে নির্বাসনে রয়েছেন, ঘটনাটিকে ‘বেদনাদায়ক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দুর্ঘটনার দিনই ভাগাড়টি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গিনিতে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট মামাদি দুমবুইয়া ক্ষমতায় রয়েছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় আসেন। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

সূত্র: আলজাজিরা