পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় আহত ১৯ ফিলিস্তিনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান ও অবৈধ বসতিতে থাকা ইসরায়েলিদের হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, আলাদা দেয়ালের কাছে আর-রাম এলাকায় পূর্ব জেরুজালেমে ঢোকার চেষ্টা করা তিন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে আহত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গভর্নরেটের ভাষ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে কাজ করতে বাধাপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের ওপর প্রায় প্রতিদিনই হামলা হচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের তুবাস গভর্নরেটে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানের সময় কাঁদানে গ্যাসে আক্রান্ত অন্তত ১১ ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসা দিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট। আহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে।
হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তায় এক বয়স্ক ফিলিস্তিনিকে অস্ত্রধারী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা মারধর করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা। পরে ইসরায়েলি সেনারা ওই ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে এবং পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, জেনিনের দক্ষিণে আররাবেহ এলাকায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের মারধরের পর দুই তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তুবাস প্রদেশের তাম্মুনে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকেও গুরুতর মারধরের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই এলাকায় বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় আরও একটি শিশু আহত হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার পৃথক দুটি ঘটনায় হেবরন ও জেনিনে ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন।
১৪ দিন ধরে ঘরবন্দী দুই পরিবার
নাবলুসের দক্ষিণে কুসরায় হাসান ও আবু রিদা পরিবারের সদস্যরা টানা ১৪ দিন ধরে নিজেদের বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা তাঁদের বাড়ি ঘিরে রেখেছে এবং ওই এলাকার চারপাশে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক নিয়ন্ত্রণ জারি রেখেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি সেনারা বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাঁদের আশঙ্কা, এই নিষ্ক্রিয়তা পরিবার দুটিকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে।
ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীর সংখ্যা এখন প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার। তাঁরা ১৯২টি বসতি ও ৪০০টি আউটপোস্টে বসবাস করছেন।
কমিশনের হিসাবে, এসব বসতি পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’-এর প্রায় ৭১ শতাংশ এবং জর্ডান উপত্যকার ৯১ শতাংশ এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তরের হিসাব আরও উদ্বেগজনক। জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতিস্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়টি হামলা হয়েছে-দুই দশক আগে পদ্ধতিগতভাবে হিসাব রাখা শুরুর পর এটিই সবচেয়ে দ্রুতগতির হামলার প্রবণতা।
জাতিসংঘের হিসাবে, এ বছর এখন পর্যন্ত বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা অথবা এর সঙ্গে যুক্ত বিধিনিষেধের কারণে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
জাতিসংঘের নিয়োগ করা একটি তদন্ত কমিশনও জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বারবার আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল-এমন বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা, অস্ত্র ও অর্থ সহায়তার মাধ্যমে এসব হামলা সরাসরি সম্ভব করে তোলা হয়েছে বলেও কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সূত্র: আলজাজিরা