গোলান মালিকানা নিয়ে মন্তব্য ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন দূত

 প্রকাশ: ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গোলান মালিকানা নিয়ে মন্তব্য ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন দূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সিরিয়ার গোলান মালভূমি ইসরায়েল দখল করে রেখেছে-এমন মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক। রোববার তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, গোলান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নীতি ঘোষণা করেছিলেন, সেটিই বহাল আছে।

গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ব্যারাক বলেছিলেন, জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং ‘পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে গিয়ে ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান দখল করে রেখেছে। তাঁর ওই মন্তব্যে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মার্কিন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

রোববার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্যারাক বলেন, ‘গোলান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্ধারণ করেছেন এবং তা অপরিবর্তিত রয়েছে।’

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল গোলান মালভূমির দখল নেয়। ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে একতরফাভাবে যুক্ত করে নেয় ইসরায়েল। তবে ২০১৯ সালে ট্রাম্প ইসরায়েলের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো দেশই গোলানকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, কোনো দেশের শক্তি প্রয়োগ করে অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল বা নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর মেয়াদের শুরুতে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু চার বছর ক্ষমতায় থাকলেও গোলান নিয়ে ট্রাম্পের নীতি তিনি পরিবর্তন করেননি।

সম্প্রতি কলম্বিয়ার ডানপন্থী সরকারও গোলান নিয়ে ইসরায়েলের দাবির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে যোগ দিয়েছে।

শুক্রবার পডকাস্টার মারিও নওফালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্যারাককে দক্ষিণ লেবাননের কোনো অংশ ইসরায়েল দখল বা নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে যুক্ত করতে পারে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ইসরায়েলের এমন উদ্দেশ্য থাকলেও লেবাননের ভূখণ্ড নিজেদের বলে দাবি করা তাদের জন্য কঠিন হবে।

এরপর গোলান প্রসঙ্গে ব্যারাক বলেন, সিরিয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং ‘পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার’ বিরোধিতা করে গোলান দখল করে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা অঞ্চলটিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।

তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশের পর ইসরায়েলের সমর্থকেরা দ্রুত প্রতিবাদ জানান। ডানপন্থী মার্কিন ভাষ্যকার লরা লুমার ব্যারাকের পদত্যাগ দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে ব্যারাকের ‘বোঝাপড়ার ঘাটতির’ কারণে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।

রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কটও ব্যারাকের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েই ব্যারাক সিনেটে অনুমোদন পেয়েছেন।

স্কট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের ২০১৯ সালের গোলানবিষয়ক ঘোষণার একটি কপি শেয়ার করে বলেন, ইসরায়েলের গোলান মালভূমির ওপর সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্প বহু বছর ধরেই স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে আসছেন।

সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলা নিয়েও এর আগে ব্যারাক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। গত সপ্তাহে একটি সিরীয় বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।

নওফালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ব্যারাক ইঙ্গিত দেন, সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার একটি উদ্দেশ্য হতে পারে তুরস্ককে উসকে দেওয়া। সিরিয়ার সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করাকে তিনি নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি ‘আক্রমণাত্মক’ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও উল্লেখ করেন।

সূত্র: আলজাজিরা