সেই লিটন দাসই সবচেয়ে বেশি হতাশ করলেন

 প্রকাশ: ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

সেই লিটন দাসই সবচেয়ে বেশি হতাশ করলেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইনজুরির কারণে শুরুতে দলে ছিলেন না তিনি, এরপরই অনেকটা হঠাৎ করে রিকভারি করে কাকতালীয়ভাবে প্রথম টেস্টের দলে সুযোগ পান লিটন দাস। প্রত্যাশিতভাবে ডারউইন ও ম্যাকাইতে দুটি টেস্টেই খেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। সিরিজ ড্র করলেও সেখানে কোন অবদান নেই তার। দুই টেস্টের তিন ইনিংসে খেলার সুযোগ পেয়ে কোন রানই করতে পারেননি লিটন। টিম পারফরম্যান্স ও পরিণতি- কোনোটাই ভালো হয়নি। টাইগার সমর্থক ও ভক্তরা চরম হতাশ। তবে এ হতাশার ঘুটঘুটে অন্ধকারেও প্রদীপের মতো জ্বলছেন পেসার শরিফুল। ইনজুরি কাটিয়ে এবাদতের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েই ম্যাকাইতে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন বাঁ-হাতি ফাস্টবোলার শরিফুল ইসলাম। ক্যারিয়ারে প্রথম ফাইফার শিকারী এ বাঁ-হাতি ফাস্টবোলার ম্যাকাইতে নিজের ক্যারিয়ার সেরা (৭/৪৮) বোলিং স্পেলই উপহার দেননি শুধু দেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম এক ইনিংসে ৭ উইকেট শিকারী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর আগে পেসারদের মধ্যে এক ইনিংসে সেরা স্পেলটি ছিল আরেক পেসার সাহাদাত হোসেন রাজীবের (৬/২৬)। রেকর্ড ভেঙে এখন এক ইনিংসের সেরা বোলিং স্পেলটি শরিফুলের। 

কিন্তু শরিফুল নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় তার আর দ্বিতীয়বার বোলিং করা হয়ে ওঠেনি। অস্ট্রেলিয়ার সামনে যদি টাইগার ব্যাটাররা ১০০ রানের টার্গেটও দিতে পারতেন, তাহলেও শরিফুল নিজের বোলিং ক্যারিশমা দেখানোর আরও একটা সুযোগ পেতেন। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয়বার ৯৫ রানে ইনিংস শেষ করায় তা আর হয়ে ওঠেনি। এই না পারার দায় পুরোই ব্যাটারদের। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (৩১) আর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (২৯) ছাড়া কেউ এতটুকু দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি। তাদের দুজনের ব্যাট  থেকে আসে ৬০ রান। বাকি ৯ জনের- সাদমান (৯), তানজিদ তামিম (১), মুমিনুল হক (০), লিটন দাস (০),  মেহেদি মিরাজ (১), হাসান মাহমুদ (২), তাইজুল (৭), তাসকিন (৮) আর শরিফুল (০)- কেউ দুই অংকে  পৌঁছাতে পারেননি। তারা সবাই মিলে করেছেন ২৮। এছাড়া ৭ রান আসে অতিরিক্ত থেকে। এই ছিল টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংসের করুণ চিত্র। তবে এর মধ্যে দুজনের খারাপ খেলাটা অনেক বেশি চোখে পড়েছে। 

এক, লিটন দাস। দুই, মুমিনুল হক। এর মধ্যে লিটন দাস ম্যাকাই টেস্টের উভয় ইনিংসেই শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছেন। আর মুমিনুল হক প্রথমবার ৯ রানে ফিরলেও এবার মিচেল স্টার্কের প্রথম বলে কিছু না বুঝেই বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন। লিটন দাস উভয় ইনিংসেই অস্ট্রেলীয় বাঁ-হাতি ফাস্টবোলার মিচেল স্টার্কের বলে আউট হন। প্রথম ইনিংসে প্রথম বলে কোনো রান না করে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে জড়িয়ে আউট হওয়া লিটন রোববার দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ বল খেলার পর স্টার্কের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলকে তাড়া করে থার্ডম্যানে গলাতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে বিদায় নিয়েছেন। লিটন দাসের এটা ছিল ৫৬ নম্বর টেস্ট। এর আগে ডারউইন টেস্টে একবার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েও লিটন ফিরে গিয়েছিলেন কোনো রান না করেই। মানে ২ টেস্টে ৩ বার ব্যাট করার সুযোগ পাওয়া লিটন দাস তিনবারই আউট হয়েছেন শূন্য রানে। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারের এমন হতশ্রী অবস্থা ভক্তদের হতাশ করেছে। মোটামুটি পরিপাটি টেকনিক। ক্রিকেট ব্যাকরণের সব শট খেলার ক্ষমতা আছে। তারপরও টেস্টে লিটনের ধারাবাহিকতা বেশ কম। 

সবচেয়ে বড় কথা, দেশের বাইরে তার ভালো খেলার রেকর্ড কম। তার ৬ টেস্ট সেঞ্চুরির ৪টিই (সিলেটে পাকিস্তানের সাথে ১২৬, মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের সাথে ১২৮, মিরপুরে শ্রীলঙ্কার সাথে ১৪১ ও চট্টগ্রামে পাকিস্তানের সাথে ১১৪) ঘরের মাঠে। দেশের বাইরে লিটনের দুটি শতক। একটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২২ সালে ক্রাইস্টচার্চে (১০২) ও পাকিস্তানের সাথে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে (১৩৮)। এ সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে। শেষ মুহূর্তে ফিটনেস ফিরে পেয়ে দলে ঢুকেও চরম ব্যর্থ লিটন। তিন ইনিংসে একটি রানও আসেনি তার ব্যাট থেকে। এমন নয়, তিনি উইকেটে গিয়েই পত্রপাঠ বিদায় নিয়েছেন। তিনটি ইনিংসেই কয়েকটি বল খেলার পর আউট হয়েছেন। ডারউইনে ১২ বল খেলে আউট, ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫ বল খেলার পর ফিরে গেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ বল খেলে অস্ট্রেলীয় বাঁ-হাতি ফাস্টবোলার মিচেল স্টার্কের অফস্ট্যাম্পের বাইরে  বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারি ছেড়ে না দিয়ে থার্ডম্যানে গলাতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরত আসাটা ছিল খুবই দৃষ্টিকটু। উইকেটে বল ম্যুভ করছে। কিপারের সাথে তিন স্লিপ আর গালিতে একজন ওঁত পেতে আছেন। এরকম অবস্থায় অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে ব্যাট পেতে দেওয়া মানেই আত্মঘাতি শট। অনেকেই এটাকে দুলকি চালে খেলা বলে মন্তব্য করেছেন। ম্যাচ কন্ডিশন বিবেচনায় না এনে নিজের মতো করে খেলার চেষ্টা এবং দুলকি চালে ব্যাট চালনা লিটন দাসের অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। তাকে দলের ব্যাটিং স্মম্ভ ভাবা হয়।