একদিনে ১৮ উইকেটের পতন, লিড অষ্ট্রেলিয়ার

 প্রকাশ: ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

একদিনে ১৮ উইকেটের পতন, লিড অষ্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে জেতার পর টগবগে আত্ববিশ^াস নিয়ে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাকাউতে রীতিমতো লজ্জায় পড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৬৪ রানে অলআউটের পর দিনশেষে ১৬৫ রান করেছে প্যাট কামিন্সের দল। ১০১ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে অজিরা। সে কারণে দিদ্বতীয় দিনেই খেলা শেষ হওয়ার শংকা করছেন কেউ কেউ। ব্যাট হাতেও শরিফুল ইসলাম, বল হাতেও শরিফুল ইসলাম! ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটি হয়ে রইল পুরোপুরি শরিফুলময়। প্রথম ব্যাটিংয়ে ১১ নম্বরে নেমে দলকে বাঁচালেন বিব্রতকর রেকর্ড হাত থেকে। পরে বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়ে দলকে লড়াইয়েও রাখলেন বাঁহাতি এই পেসার। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনা স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্টের প্রথম দিন পড়েছে মোট ১৮টি উইকেট। গত ৫১ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে প্রথম দিনে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড এটি। এর মধ্যে আগে ব্যাট করে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। পরে দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫ রান। ফলে ১০১ রানে এগিয়ে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখার মূল কারিগর ওই শরিফুলই। 

প্রথমে ব্যাট হাতে ১১ নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ ১৪ রানের ইনিংস। পরে বোলিংয়ে ৩৫ রানে ৬ উইকেট। দুইয়ে মিলে টেস্ট ইতিহাসে নতুন কীর্তি গড়েছেন শরিফুল ইসলাম। দীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো ক্রিকেটার একই ম্যাচে ১১ নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান ও বল হাতে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গেলেও, পরে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখেন শরিফুল। তৃতীয় ওভারে প্রথম আঘাত অবশ্য করেন তাসকিন আহমেদ। একাদশে ফেরা ম্যাট রেনশকে স্লিপে ক্যাচ বানান অভিজ্ঞ পেসার। আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকে টিকতে দেননি শরিফুল। আগের ম্যাচের দুই ইনিংসের মতো এবারও কাট করতে গিয়ে বল স্টাম্পে টানেন বাঁহাতি ওপেনার। একই ওভারে পায়ের পেছন দিয়ে মার্নাস লাবুশেনকে বোল্ড করেন শরিফুল। পরে চাপ সামাল দিয়ে ৭৭ রানের জুটি গড়েন স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। নতুন স্পেলে ফিরে এই জুটিও ভাঙেন শরিফুল। ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৭৪ বলে ৪২ রানে ফিরে যান স্মিথ। 

সেখান থেকে ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। মাত্র ৩০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় তারা। আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই অ্যালেক্স কেয়ারিকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের ওভারে বাউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে খালি হাতেই ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট নেন শরিফুল। এর আগে ওয়ানডেতেও নিজের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ৫ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই নিয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার। শরিফুলের পরের ওভারে স্টাম্প এলোমেলো হতে দেখেন মিচেল স্টার্ক। মাত্র ১৪৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। দিনের বাকি ৪১ বলে আর উইকেট পড়তে দেননি ক্যামেরন গ্রিন ও লায়ন। ফিফটি পেরিয়ে ৫১ রানে অপরাজিত গ্রিন, লায়নের সংগ্রহ ১০ রান। এর আগে রৌদ্রজ্জ্বল সকালে ম্যাকাইয়ের অভিষেক টেস্টে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। স্টার্কের চমৎকার ডেলিভারিতে গালিতে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম। সেখান থেকেই যেন ঠিক হয়ে যায় ইনিংসের বাকি গতিপথ। টেস্ট ম্যাচের প্রথম বলে আউট হওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটার সাদমান। এর আগে তিনবার টেস্টের প্রথম বলে আউট হয়েছেন সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার। আর ওই তিনবারই তাকে আউট করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি পেসার পেদ্রো কলিন্স। 

এ নিয়ে চারবার টেস্ট ম্যাচের প্রথম বলে উইকেট নিলেন স্টার্ক। এই রেকর্ডে জেমস অ্যান্ডারসনকে (৩) টপকে  গেছেন তিনি। আর সব মিলিয়ে ৯ বার টেস্ট ম্যাচের প্রথম ওভারে উইকেট নিলেন স্টার্ক। এই রেকর্ডেও অ্যান্ডারসনকে (৮) ছাড়িয়েছেন তিনি। স্টার্কের পরের ওভারে জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে  ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তানজিদ হাসান তামিম ও চার নম্বরে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এলবিডব্লিউতে রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স কলে কপাল পোড়ে শান্তর। ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটারের তিনজনের শূন্য রানে আউট হওয়ার তৃতীয় ঘটনা এটি। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট ও ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টে প্রথম চার ব্যাটারের তিনজন ফিরে গিয়েছিলেন খালি হাতে। এছাড়া দুই ওপেনারের  শূন্য রানে আউট হওয়ার চতুর্থ ঘটনা এটি। ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস, ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিম ও শামসুর রহমান এবং ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিম ও মাহমুদুল হাসান জয় ফিরেছিলেন শূন্য রানে। নিজের পরের দুই ওভারে মুমিনুল হক ও লিটন কুমার দাসকে ফেরান স্টার্ক। তানজিদ তামিমের মতোই আলগা শটে স্লিপে ক্যাচ দেন মুমিনুল। আর আম্পায়ার লিটনকে নট আউট দিলে, রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত পক্ষে পায় অস্ট্রেলিয়া। রানের খাতা খোলার আগেই লিটনকে আউট করে মাত্র ২২ বলে ১০৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৯তম ৫ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।

Advertisement
Advertisement
Advertisement