শেষটা জয়ে রাঙাতে চায় বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে হামজা-বাগট দ্বৈরথ
ছবি-সংগৃহীতক্রীড়া প্রতিবেদক:
FIFA ASEAN Cup 2026-এর প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন বাংলাদেশ এবার শেষ গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের দল। এবার শেষ ম্যাচে ইতিবাচক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জয় নিয়ে দেশে ফেরার লক্ষ্য বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচটি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী এটিই বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ।
শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। ফলে শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রতিযোগিতায় নিজেদের পারফরম্যান্স ইতিবাচকভাবে শেষ করার দিক থেকে।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা পুনরুদ্ধার ও প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন। শুরুর একাদশে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য ছিল রিকভারি সেশন। অন্যদিকে বদলি ও বেঞ্চের খেলোয়াড়েরা মাঠে অনুশীলন করেন।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য ছিল খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং শেষ ম্যাচে দলীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
সাফের প্রস্তুতিতেও কাজে লাগবে ম্যাচ
বাংলাদেশের মিডফিল্ডার সোহেল রানা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ঘরোয়া ফুটবলের বাইরে থাকার পর ASEAN Cup-এর ম্যাচগুলো জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।
প্রায় তিন মাস ঘরোয়া লিগ না থাকায় নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি জাতীয় দলের অনেক ফুটবলার। জাতীয় দলের ক্যাম্পও হয়েছে তুলনামূলক সীমিত সময়ে। ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফেরার এই সুযোগকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখছে দল।
সোহেল রানা বলেন, প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতায় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উন্নতি ও আত্মবিশ্বাস এসেছে। সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থাকায় ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিও নিজেদের প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগাতে চান তারা।
ইন্দোনেশিয়াকে শক্ত প্রতিপক্ষ মানছে বাংলাদেশ
গ্রুপের শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়াকে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন সোহেল রানা। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ ও দলীয় সক্ষমতা বিবেচনায় শুরু থেকেই মাঝমাঠে সংগঠিত রক্ষণাত্মক অবস্থান ধরে রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের পরিকল্পনায় ম্যাচের শুরু থেকেই মিডব্লক ধরে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সুযোগ অনুযায়ী আক্রমণে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সুযোগ কাজে লাগাতে চান শাদিন
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে খেলেছেন মিনহাজুল করিম শাদিন। জাতীয় দলে সাম্প্রতিক অভিষেক হওয়া এই ফরোয়ার্ড মনে করেন, ফল পক্ষে না গেলেও আগের ম্যাচের তুলনায় দল কিছু ইতিবাচক দিক দেখাতে পেরেছে।
দলের আক্রমণভাগে নিজের ভূমিকা নিয়ে শাদিন বলেন, স্ট্রাইকার হিসেবে দলের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং আক্রমণে অবদান রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয় পেতে দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার রক্ষণভাগে ইউরোপীয় ফুটবলে খেলা কয়েকজন খেলোয়াড় থাকলেও তাঁদের নিয়ে আলাদা করে ভয় পাওয়ার কিছু দেখছেন না শাদিন। তাঁর মতে, ফুটবলে যেকোনো খেলোয়াড়ই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
নজরে হামজা ও বাগটের লড়াই
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে হামজা দেওয়ান চৌধুরী ও এলকান বাগটের সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়া।
দুজনই ইংলিশ ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা খেলছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে, আর ইন্দোনেশিয়ার ডিফেন্ডার এলকান বাগট মিলওয়ালের হয়ে খেলছেন। ক্লাব ফুটবলে একই প্রতিযোগিতায় থাকলেও এখনো একে অপরের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হয়নি তাঁদের।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ম্যাচটির আগে হামজা ও বাগটের বিমানযাত্রায় দেখা হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। হামজা বাগটকে প্রতিভাবান ও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বিপক্ষে মাঠে নামার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের হয়ে হামজা এরই মধ্যে ASEAN Cup-এর ম্যাচে মাঠে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে তাঁর নেওয়া একটি শট ইন্দোনেশিয়ার নয়, মালয়েশিয়ার গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলেছিল বলে FIFA-এর ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ ম্যাচে ইতিবাচক বার্তা দিতে চায় বাংলাদেশ
প্রথম দুই ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না এলেও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থাকায় আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোই দলের অন্যতম লক্ষ্য।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে থাকবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, বড় দর্শকসমাগম এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের আরও একবার পরীক্ষা করার সুযোগ। হামজা, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা ও শাদিনদের সামনে তাই শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠছে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এবং নিজেদের উন্নতির জায়গাগুলো যাচাইয়ের আরেকটি সুযোগ।
| আরো পড়ুন----এশিয়ান গেমস ১৬ বছরের খরা ঘুচানে চান লিটন |