২০২৬-২৭ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপার লড়াই, কারা এগিয়ে
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বকাপের উত্তেজনা পেরিয়ে আবারও ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততায় ফিরছে ইউরোপ। আর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম ঘিরে এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আর্সেনাল কি শিরোপা ধরে রাখতে পারবে, নাকি ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, লিভারপুল কিংবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে?
গত মৌসুমে টানা তিনবার রানার্সআপ হওয়ার পর অবশেষে লিগ শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর এটি তাদের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি। ৩৮ ম্যাচে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে সাত পয়েন্টের ব্যবধানে ম্যানচেস্টার সিটিকে পেছনে ফেলেছিল তারা।
এবার তাই আর্সেনালই প্রতিপক্ষদের প্রধান লক্ষ্য। তবে মিকেল আর্তেতার দল শিরোপা জেতার পর বসে থাকেনি। নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ব্রুনো গিমারায়েসকে এনে মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী করেছে তারা। আক্রমণভাগে যোগ হয়েছে ক্রিস্টোস তজোলিস।
আর্সেনালের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ভারসাম্য। ডেভিড রায়া, উইলিয়াম সালিবা ও গ্যাব্রিয়েলকে নিয়ে রক্ষণভাগ শক্তিশালী। মাঝমাঠে ডেকলান রাইস ও মার্টিন ওডেগার, আর আক্রমণে বুকায়ো সাকা—সব মিলিয়ে দলটির প্রতিটি বিভাগেই মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে।
তবে শিরোপা ধরে রাখার চাপ এবার নতুন চ্যালেঞ্জ। গত মৌসুমে আক্রমণে সাকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেখা গেছে। এবার সামনে থেকে আরও বেশি খেলোয়াড়কে গোল ও সৃষ্টিশীলতার দায়িত্ব নিতে হবে।
পূর্বাভাস: চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল।
ম্যানচেস্টার সিটি
নতুন মৌসুম ম্যানচেস্টার সিটির জন্য একটি যুগের সমাপ্তি ও নতুন অধ্যায়ের শুরু। পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা। এর সঙ্গে রদ্রির বার্সেলোনায় চলে যাওয়া আরও বড় পরিবর্তন এনেছে।
রদ্রি ছিলেন গার্দিওলার মাঝমাঠের প্রাণকেন্দ্র। তার নিয়ন্ত্রণ, বুদ্ধিমত্তা ও নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণ করা মারেসকার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
তবে সিটির হাতে এখনো আর্লিং হলান্ড আছেন। গত মৌসুমে ২৭ গোল করে তৃতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জিতেছেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। ওমর মারমুশ, জেরেমি ডকু, রায়ান শেরকি ও অঁতোয়ান সেমেনিওর মতো খেলোয়াড়রাও আক্রমণে বৈচিত্র্য এনে দিতে পারেন।
গত মৌসুমে ৭৭ গোল করে লিগে সর্বোচ্চ গোল করেছিল সিটি। তাই গোল করা তাদের মূল সমস্যা নয়; বরং রদ্রির জায়গা পূরণ করাই বড় প্রশ্ন।
পূর্বাভাস: দ্বিতীয়। শিরোপার প্রকৃত দাবিদার।
চেলসি
গত মৌসুমে দশম হয়ে শেষ করা চেলসি এবার নতুনভাবে শুরু করতে যাচ্ছে। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জাবি আলোনসো। বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় না থাকায় লিগে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার সুযোগও পাচ্ছে দলটি।
আলোনসোর কৌশলগত দক্ষতা ও খেলোয়াড়দের অবস্থানভিত্তিক ফুটবল চেলসিকে একটি সুসংগঠিত দলে পরিণত করতে পারে। ইউরোপীয় ম্যাচ না থাকায় খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও ঘুরিয়ে খেলানোর সুযোগও বেশি থাকবে।
তবে ৪০ জনের বেশি প্রথম দলের খেলোয়াড় থাকা স্কোয়াডই আলোনসোর জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের ধারাবাহিকতার অভাবও উদ্বেগের জায়গা।
সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে কোল পালমারের ওপর। গত মৌসুমে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা এই ইংলিশ মিডফিল্ডার তার পুরোনো ছন্দে ফিরতে পারলে চেলসির আক্রমণে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
পূর্বাভাস: তৃতীয়।
লিভারপুল
২০২৪-২৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল গত মৌসুমে নেমে গিয়েছিল পঞ্চম স্থানে। ১২টি ম্যাচে হেরে এবং ৫৩ গোল হজম করে কোচের পরিবর্তনও করেছে ক্লাবটি। আরনে স্লটের জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন আন্দোনি ইরাওলা।
তবে মোহাম্মদ সালাহর বিদায় লিভারপুলের জন্য বড় ধাক্কা। শুধু গোল নয়, দলের আক্রমণের প্রধান ভরসা ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়েছে তারা।
রক্ষণেও সমস্যা রয়েছে। গত মৌসুমে ৫৩ গোল হজম করা লিভারপুলকে শিরোপার লড়াইয়ে ফিরতে হলে এই জায়গায় দ্রুত উন্নতি করতে হবে।
ডমিনিক সোবোসলাই গত মৌসুমে দলের অন্যতম উজ্জ্বল খেলোয়াড় ছিলেন। ইরাওলার আগ্রাসী, প্রেসিংনির্ভর ফুটবলে হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। নতুন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় জেরেমি জাকে এবং আক্রমণে ভিক্টর মুনোজও নজরে থাকবেন।
পূর্বাভাস: চতুর্থ।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
বহু বছর পর এবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শিরোপার সম্ভাবনার পেছনে কিছুটা বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। গত মৌসুমে তৃতীয় হয়ে শেষ করা দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছে। কোচ মাইকেল ক্যারিকও পেয়েছেন স্থায়ী দায়িত্ব।
মাঝমাঠে ইউরি টিয়েলেমানসের আগমন দলটির বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়াতে পারে। ব্রুনো ফার্নান্দেস এখনো দলের সৃজনশীলতার মূল কেন্দ্র। তার সঙ্গে মাতেউস কুনিয়া, ব্রায়ান এমবেউমো ও আমাদ দিয়ালো আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারেন।
তবে রক্ষণ বড় দুর্বলতা। গত মৌসুমে ৫০ গোল হজম করেছে ইউনাইটেড, যেখানে আর্সেনালের বিপক্ষে সংখ্যাটি ছিল ২৭ এবং সিটির ৩৫।
চ্যাম্পিয়নস লিগের পাশাপাশি চার প্রতিযোগিতায় খেলতে হবে ইউনাইটেডকে। ফলে স্কোয়াডের গভীরতার ঘাটতি তাদের ভোগাতে পারে। শীর্ষ তিনে থাকতে হলে রক্ষণে আরও শক্তি যোগ করা জরুরি।
পূর্বাভাস: পঞ্চম।
শিরোপার দৌড়ে কারা এগিয়ে?
সব মিলিয়ে বর্তমান শক্তির বিচারে আর্সেনালই সবচেয়ে এগিয়ে। শিরোপাজয়ী দলটির মূল কাঠামো অক্ষত রয়েছে, সঙ্গে যোগ হয়েছে গিমারায়েসের মতো মানসম্পন্ন মিডফিল্ডার।
সিটির অভিজ্ঞতা ও হলান্ড তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলেও গার্দিওলা ও রদ্রির বিদায় বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। চেলসির নতুন কোচ ও বিশাল স্কোয়াড তাদের অপ্রত্যাশিত প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে পারে।
লিভারপুলকে সালাহ-পরবর্তী আক্রমণ এবং দুর্বল রক্ষণ নিয়ে কাজ করতে হবে। আর ইউনাইটেডের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গত মৌসুমের উন্নতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া।
সম্ভাব্য শীর্ষ পাঁচ:১. আর্সেনাল২. ম্যানচেস্টার সিটি৩. চেলসি৪. লিভারপুল৫. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড