ডলারের দর ২০ লাখ রিয়ালে, চরম অর্থকষ্টে ইরান

 প্রকাশ: ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ডলারের দর ২০ লাখ রিয়ালে, চরম অর্থকষ্টে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের দাম ঐতিহাসিকভাবে ২০ লাখ রিয়ালে উঠেছে। রিয়ালের দ্রুত পতনের মধ্যে দেশটির সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

রোববার ডলারের দাম ২০ লাখ রিয়াল ছাড়ায়। এর আগে গত সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডলারের দাম ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার রিয়াল। অর্থাৎ এক সপ্তাহেরও কম সময়ে রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি।

এক বছর আগের তুলনায় রিয়ালের অবমূল্যায়ন আরও তীব্র। সে সময় এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার রিয়াল। একই সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ২৭ লাখ ২০ হাজার রিয়াল ছাড়িয়েছে, আর ইউরোর দাম উঠেছে প্রায় ২৩ লাখ ৪০ হাজার রিয়ালে। খোলা বাজারের অনানুষ্ঠানিক ও খণ্ডিত লেনদেনের কারণে বিভিন্ন সূত্রে বিনিময় হারে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

ইরানের নাগরিকদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

একজন ইরানি বলেন, বিপ্লব, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, মূল্যবৃদ্ধি ও নানা সংকট তাঁরা পার করেছেন। এখন বয়স ৫০ পেরিয়ে সন্তানদের চাকরি, ভবিষ্যৎ, পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ ও বিয়ের ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, বাইরে ও ভেতর থেকে আসা এত চাপ একজন মানুষ কতটা সহ্য করতে পারেন।

নিষেধাজ্ঞা কতটা কাজে দিচ্ছে?

রিয়ালের নতুন করে পতনের কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর ভাষায় ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেন। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে মিত্র দেশগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন আড়াল কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ইরানিদের অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের চাপ সরকারকে নীতির পরিবর্তনে বাধ্য করার বদলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন করে তুলছে।

একজন বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে ইরান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে, কিন্তু তাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা বদলায়নি। বরং সাধারণ মানুষ আরও দরিদ্র হয়েছে এবং ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের সংকটে পড়েছে।

আরেকজনের মতে, সরকার জনগণের কাছ থেকেই বাজেট ঘাটতি পূরণের অর্থ সংগ্রহ করে। ফলে নিষেধাজ্ঞার মূল আঘাত গিয়ে পড়ছে স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, শিক্ষা ও খেলাধুলার মতো খাতে।

প্রতিদিনের জীবন আরও ব্যয়বহুল

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার বাড়তি চাহিদা, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে পতন এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা ডলারের চাহিদা বাড়াচ্ছে।

এর সঙ্গে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আঞ্চলিক তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অচলাবস্থা মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রিয়ালের পতনের সময় ইরানে বিদ্যুৎ ও পানির সংকটও উৎপাদন ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করছে। রিয়ালের আরও অবমূল্যায়ন হলে আমদানি করা কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, যা পরিবারগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়াতে পারে।

ইরানের কিছু নাগরিক মনে করছেন, সরকারের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করতে হলে কর্মকর্তাদের বিদেশে থাকা সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।

একজন বলেন, কর্মকর্তাদের ও তাঁদের সন্তানদের বিদেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা গেলে সেটাকেই সরকারের ওপর প্রকৃত অর্থনৈতিক চাপ বলা যাবে।