মুষলধারে বৃষ্টি, হাওয়াইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে মোকে

 প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মুষলধারে বৃষ্টি, হাওয়াইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে মোকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ক্রান্তীয় ঝড় মোকে হাওয়াইয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে দ্বীপপুঞ্জটি ক্যাটাগরি-১ হারিকেন লালার আঘাতে বন্যা ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল।

শনিবার হাওয়াইয়ের বাসিন্দারা নতুন ঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোকে স্থানীয় সময় শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। হাওয়াই দ্বীপটি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ এবং ‘বিগ আইল্যান্ড’ নামেও পরিচিত।

হাওয়াই স্ট্যান্ডার্ড সময় শনিবার সকাল ১১টায় ঝড়টির অবস্থান ছিল হাওয়াই দ্বীপের পূর্ব উপকূলের হিলো শহর থেকে প্রায় ৬৮৪ কিলোমিটার দক্ষিণে। ঘণ্টায় ১৯ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছিল মোকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮৫ কিলোমিটার।

পূর্বাভাস বলছে, মোকে হাওয়াই দ্বীপে সরাসরি বড় ধরনের আঘাত হানবে না। তবে লালার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে থাকা দ্বীপটির জন্য নতুন করে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া পরিস্থিতি কঠিন করে তুলতে পারে।

গত সপ্তাহের লালা ঝড়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়। ঝড়টি হাওয়াই দ্বীপের এত কাছে দিয়ে যায় যে কোনো কোনো এলাকায় এক হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়। এতে নদীর পানি উপচে পড়ে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়।

প্রবল বাতাসে উঁচু পামগাছ বেঁকে যায় এবং বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্নতার শিকার হন।

মোকে মোকাবিলায় প্রস্তুতি

হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিনসহ রাজ্য কর্মকর্তারা ঝড়ের আগে খাবার, ওষুধ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় গ্রিন বলেন, দ্বীপটি এরই মধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ায় মোকে ‘বড় প্রভাব’ ফেলতে পারে। অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও কর্মী আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঝড়ের কারণে যাঁদের প্রয়োজনীয় সেবা বা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই, তাঁদের জন্য ১০০টি হোটেল কক্ষের ব্যবস্থা করার অনুমোদন দিয়েছেন বলেও জানান গভর্নর।

লালার পর হাওয়াই দ্বীপের বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরেছে। তবে প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ নেই। এসব এলাকায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা

মোকে হাওয়াই দ্বীপ অতিক্রম করার পর মঙ্গলবারের শুরুর দিক পর্যন্ত দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে পশ্চিমমুখী পথে এগোতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের হনুলুলু কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ ক্যাসি অসওয়ান্ট।

তিনি বলেন, বিশেষ করে হাওয়াই দ্বীপের বাতাসের দিকে থাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের প্রভাব থাকবে। তবে তা লালার তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে।

ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব ও বাতাসের দিকের এলাকায় প্রায় ১৩০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ৩৮০ মিলিমিটার বা ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

মাউইয়ের পূর্বাঞ্চলে ৭৬ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বীপপুঞ্জের অন্য এলাকাগুলোতেও তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।

তবে মোকে চলে গেলেই দুর্যোগের ঝুঁকি শেষ হচ্ছে না বলে সতর্ক করেছেন গভর্নর গ্রিন। তাঁর ভাষায়, ঝড়টির প্রায় এক সপ্তাহ পর আরেকটি ঝড়ের ফ্রন্ট হাওয়াইয়ের দিকে আসতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবও অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আলজাজিরা