সিরিয়ায় হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়নি ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিরিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গোয়েন্দা তথ্য জানানো হয়েছিল।
শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে ব্যারাক সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের আবু দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলাকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ধারণা, ওই হামলার মাধ্যমে সিরিয়ায় ব্যাপক প্রভাব থাকা তুরস্ককে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
ব্যারাক বলেন, হামলাটি তুরস্ককে ‘উসকে দেওয়ার’ উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে। ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপকে তিনি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ব্যারাকের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, মঙ্গলবারের হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনুমোদিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর’ সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করে আসছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, তুরস্ক সিরিয়ায় নিজের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে। তবে আঙ্কারা ইসরায়েলি হামলাকে ‘বেপরোয়া’ বলে নিন্দা করেছে।
ব্যারাকের মন্তব্যকে ‘ভুল তথ্যে পূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কাটজ। গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সামরিক দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও ব্যারাকের বক্তব্য সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন তিনি।
গোলান মালভূমিকে ব্যারাক দখল করা ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকার করলেও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসন ২০১৯ সালে ওই এলাকার ওপর ইসরায়েলের সংযুক্তিকরণকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করা গোলান মালভূমিকে আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক সিরীয় নেতা বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সিরিয়ায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। একই সময়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান নিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে সিরীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে সামরিক অবকাঠামোও গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা-যিনি অতীতে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন-বারবার বলেছেন, তাঁর সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চায় না।
তবে সিরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করলেও ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে অভিযান বন্ধে চাপ দিতে এখন পর্যন্ত কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি প্রায় নিঃশর্ত সমর্থনের নীতি বজায় রেখেছেন এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মহান মিত্র’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
আবু দুহুর ঘাঁটি নিয়ে বিরোধ
আবু দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্ক ওই এলাকায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইসরায়েল এ বিষয়ে তুরস্ককে সতর্ক করলেও আঙ্কারা তা উপেক্ষা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তুরস্ক অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ব্যারাকও বলেছেন, ঘাঁটিটিতে তুরস্কের কথিত সামরিক তৎপরতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন ছিল-এ ধরনের কার্যক্রম সেখানে হচ্ছিল না।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বুধবার জানান, আবু দুহুরে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা নেই-এ কথা সিরিয়া ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা ওই ঘাঁটি পরিদর্শন করেছিলেন প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ চলমান সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে। তবে সেখানে স্থায়ী তুর্কি সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা