রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখলে নিতে পারবে রাষ্ট্র, বাড়ছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখলে নিতে পারবে রাষ্ট্র, বাড়ছে ড্রোন হামলা
ড্রোন হামলায় চাপে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি, শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থা ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ড্রোন হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ কিংবা হামলার পর দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে না পারা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে রুশ সরকার।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সই করা নতুন একটি ডিক্রির মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চালুর পথ খুলেছে। সোমবার প্রকাশিত ওই ডিক্রি অনুযায়ী, কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে অথবা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দ্রুত মেরামত করতে না পারলে রাষ্ট্র সেটির শারীরিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ মালিকদের কাছ থেকে নিয়ে নিতে পারবে।
এরপর রাশিয়ার ফেডারেল এজেন্সি ফর স্টেট প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট অথবা সরকারের নির্ধারিত অন্য কোনো সংস্থা সংশ্লিষ্ট স্থাপনার দায়িত্ব নিতে পারবে।
জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনাও পড়ছে আওতায়
নতুন ব্যবস্থার আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে। এছাড়া শিল্পকারখানা, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবহন ও লজিস্টিক অবকাঠামো, জনসেবা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য স্থাপনাও এর আওতাভুক্ত হবে।
রাষ্ট্র কোনো স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। একই সঙ্গে সেখানে থাকা সম্পদ ও অবকাঠামোর তালিকাও তৈরি করার ক্ষমতা পাবে।
ড্রোন হামলায় চাপে রুশ অর্থনীতি
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর চার বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে। পূর্ব ইউক্রেনের সম্মুখযুদ্ধ অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে ইউক্রেন উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপও রুশ অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।
ইউক্রেন রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের অন্তত দুই ডজন গুদামে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের সংরক্ষণ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন কোম্পানির কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওজনও সোমবার জানিয়েছে, দক্ষিণ রাশিয়ায় তাদের চারটি লজিস্টিক কেন্দ্রে হামলা হয়েছে।
ড্রোন হামলায় বন্ধ পার্ম তেল শোধনাগার
ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতেও। সোমবার রাশিয়ার পার্ম তেল শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
শিল্প খাতের সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শোধনাগারটি একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহের একটি হামলায় শোধনাগারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো মেরামতে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে ইতিমধ্যে দেখা দেওয়া জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মালিকদের ওপর বাড়ছে চাপ
ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি, শিল্প ও লজিস্টিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মস্কো এখন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকদের ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি করেছে।
নতুন ডিক্রির ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ড্রোন হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে বা হামলার পর দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে না পারলে রাষ্ট্র সরাসরি সেটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সূত্র: আলজাজিরা