নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, প্রাণহানি ১৬২; নিখোঁজ শত শত পর্যটক

 প্রকাশ: ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, প্রাণহানি ১৬২; নিখোঁজ শত শত পর্যটক নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ পরিস্থিতির একটি দৃশ্য। ছবি-রয়র্টাস

অনলাইন ডেস্ক

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৪০৩ জন পর্যটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয়সহ মোট ৩৪১ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও রয়েছেন। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সময় লাগছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানিতে পুরো জাতি শোকাহত। পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত আকস্মিক ও ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার খবর পাওয়ার পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিলম্ব করা হয়নি। দুর্গতদের উদ্ধারে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ দ্রুত কাজে লাগানো হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভোটকোশী নদীর তীরবর্তী রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার বিভিন্ন জনপদ। দুর্গম ও তুলনামূলক জনবিরল এসব এলাকায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বন্যার পানির তীব্র স্রোত ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। ফলে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে মৃতের সংখ্যা এবং নিখোঁজের তালিকা ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তিত হতে পারে।