নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৪৭২; নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক
বন্যা ও হিমবাহধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ
রয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় উদ্ধার অভিযানও নানা
প্রতিকূলতার মুখে পড়ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এখন
পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটিতে নিখোঁজ রয়েছেন ৯৭৭ জন।
হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে ৩ হাজার ২৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে
নেওয়া হয়েছে। আহত শতাধিক মানুষকে কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া
হচ্ছে।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরোং কাউন্টিতেও বন্যা ও
ভূমিধসে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন। নিখোঁজদের
মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতের
২৮৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, ইউক্রেনের ৫৫ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন, অস্ট্রেলিয়ার
৩৯ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন।
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী গিরোং বন্দর এবং নেপালের রাসুয়া,
নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলায় এই দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট
আকস্মিক পানির স্রোতে নদীতীরবর্তী জনপদ, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে।
বিশেষ করে নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক
ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বন্যার পানিতে বহু পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও স্থানীয়
বাসিন্দা আটকা পড়েন। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকারীদের
ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে ভারত, দক্ষিণ
কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে দিন-রাত অভিযান চালাচ্ছেন
উদ্ধারকর্মীরা।
কর্তৃপক্ষ
বলছে, নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের
দ্রুত উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই এখন
প্রধান অগ্রাধিকার।