সংবাদ শিরোনাম

মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধে প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি ইরানের

 প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধে প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’-এ কোনো প্রতিবেশী দেশ যোগ দিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে স্বার্থে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন।

রেজাই বলেন, ‘আমরা সব প্রতিবেশী দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার জন্য বলছি। তা না হলে আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করে দেশটির সরকারকে চাপে ফেলতে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা এল।

বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক অভিযান’ চালাবে। এর এক দিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফা হামলা চালানোর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এ সপ্তাহে ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেওয়া দেশগুলোকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

শনিবারের সাক্ষাৎকারে রেজাই ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে তিন ধাপে ভাগ করেন। প্রথম ধাপে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা আলোচনা করব। এরপর বন্ধুত্বপূর্ণ ভাষায় তাদের আমেরিকা থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করব। কারণ আমরা সত্যিই যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে চাই না।’

তাঁর ভাষ্য, যারা এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য সময় দেওয়া হবে। কিন্তু তৃতীয় ধাপে ইরান ‘অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে’।

রেজাইয়ের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটন আশা করছে অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিক্ষোভ শুরু হবে এবং তা একপর্যায়ে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে সহায়তা করবে।

সংঘাত বন্ধে কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনা থমকে আছে। গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যাতে ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের’ কথা ছিল। তবে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের বড় একটি বিষয় হয়ে আছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয়।

যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরান প্রণালিটির নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে তেল ও সারের মতো পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। হরমুজ প্রণালির ওপর আগে নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এখন বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজছে।

তবে রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিকল্পনায় অংশ নিলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনের বিকল্প পথগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তেহরানের দাবি, এসব ব্যবস্থা জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘বহির্দেশীয় সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।

এদিকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার লক্ষ্য বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামরিক অভিযানকে সমর্থনকারী ইউরোপের মার্কিন মিত্রদেরও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখা হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা