ইরান যুদ্ধে ৭৫৭ মার্কিন সেনা আহত, নিহত ১৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৭৫৭ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৫৮০ জনের বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য। ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, আহত ৭৫৭ জনের মধ্যে ৮৬ জন নৌবাহিনীর সদস্য, ৬৪ জন বিমানবাহিনীর এবং ১৯ জন মেরিন সেনা। একই ডেটাবেসে ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। সংঘাতটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।
তবে পেন্টাগনের হতাহতের হিসাব ব্যবস্থায় সম্প্রতি পরিবর্তন আনা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি শ্রেণি যুক্ত করা হয়। পেন্টাগনের ভাষ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হওয়ার পর পরিচালিত সামরিক অভিযানে হতাহতদের এই নতুন শ্রেণিতে রাখা হচ্ছে।
বেশির ভাগ আহত বিস্ফোরণের অভিঘাতে
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সেনাদের আহত হওয়ার ঘটনা বা ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষেত্রে আঘাতের ধরন ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি বা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিস্ফোরণতরঙ্গ থেকে এ ধরনের আঘাত হতে পারে।
পেন্টাগনের প্রকাশিত হতাহতের হিসাব তাই ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক চিত্র বোঝার অন্যতম প্রধান সরকারি উৎস হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
সেনাদের হতাহতের পাশাপাশি যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে প্রশাসন আরও কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের অর্থ চেয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার পেন্টাগনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই অর্থের বড় অংশ গোলাবারুদ, সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং গোপন কর্মসূচিতে ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসের দিকে এগোচ্ছে। এখনো কোনো যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত পুরোপুরি বন্ধের বিস্তৃত সমঝোতা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী সামরিক তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে।
তবে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র কিংবা পৃথক সেনাদের আহত বা নিহত হওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে সরকারি হতাহতের ডেটাবেসই ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ওপর পড়া ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।