ন্যাটোর আদলে ‘মক্কা জোট’: পাকিস্তান, সৌদি ও তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ৬টি দেশ!
ছবি- সংগৃহীত
অনলাইন ডেক্স:
ন্যাটোর আদলে গড়ে ওঠা ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা’ জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্তত ছয়টিরও বেশি রাষ্ট্র। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটে অন্য দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানী ইসলামাবাদে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি কূটনৈতিক অঙ্গনের এ বড় সংবাদের জানান দেন।
কৌশলগত সংবেদনশীলতা ও কূটনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন করে আগ্রহ দেখানো দেশগুলোর নাম এখনই প্রকাশ্যে আনেননি পাকিস্তানের এই শীর্ষ কূটনীতিক।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জোর দিয়ে বলেন, ‘মক্কা চুক্তি’ কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গঠিত হয়েছে। বৈশ্বিক সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) ‘অনুচ্ছেদ-৫’-এর অনুকরণে এই জোটেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে, সদস্য তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সামরিক হামলা হলে তা জোটভুক্ত সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং যৌথভাবে তা প্রতিরোধ করা হবে।
প্রথম মহাসচিব ও সদর দপ্তর
সামরিক এই জোটের কার্যক্রম গতিশীল করতে ইতিপূর্বে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদকে প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসহাক দার নিশ্চিত করেছেন যে, জোটের স্থায়ী সচিবালয় বা সদর দপ্তর স্থাপন করা হচ্ছে সৌদি আরবে। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট সামরিক এই জোটের প্রথম আনুষ্ঠানিক কৌশলগত বৈঠকও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
হুতি হামলা ও জরুরি রিভিউ বৈঠক
সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একযোগে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহে ‘মক্কা চুক্তি’-র অধীনে এক জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ইসহাক দার স্পষ্ট জানান, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। জাতিসংঘ সনদের আওতায় সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব প্রতিরক্ষা জোট গঠন ও আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
হরমুজ প্রণালি ও আফগান সীমান্ত প্রসঙ্গ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর বাড়তি কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ বসানোর ধারার কড়া বিরোধিতা করেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পাশাপাশি প্রতিবেশী আফগানিস্তানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সবসময় কাবুলের শান্তি ও উন্নয়ন কামনা করে। তবে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) কিংবা বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যাতে আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে না পারে, তা তালেবান সরকারকেই সদিচ্ছা দিয়ে প্রমাণ করতে হবে।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে হুতিদের অব্যাহত হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘মক্কা জোট’ নামে পরিচিতি পায়।