উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ জরুরি: শিল্পমন্ত্রী
কম সময়ে বেশি ও উন্নতমানের উৎপাদন নিশ্চিত করতে নতুন চিন্তা, মেধা ও উদ্ভাবনী ধারণার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উদ্ভাবনী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
ঢাকা, ২ অক্টোবর:
দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নতুন চিন্তা, মেধা ও উদ্ভাবনী ধারণার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, উৎপাদনশীলতা কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ে গিয়ে থেমে যায় না। কম সময়ে বেশি এবং উন্নতমানের উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ খুঁজে বের করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বিসিআইসি কলেজে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্ভাবনী প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা শুধু উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয়, এটি একটি সংস্কৃতিও। যেসব দেশ এই সংস্কৃতিকে নিজেদের কর্মপদ্ধতির অংশ করেছে, তারা ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কম কর্মঘণ্টায় তুলনামূলক বেশি ও ভালো মানের ফলাফল অর্জন করতে পারলেই উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা একটি আপেক্ষিক বিষয়। বর্তমান অবস্থান থেকে আরও ভালো করার সুযোগ সবসময়ই থাকে। তাই নতুন চিন্তা ও কাজের পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে কলেজ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তার প্রশংসা করেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা যেসব নতুন ধারণা তুলে ধরেছে, সেগুলো তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সব ধারণা এখনই যন্ত্র বা বাণিজ্যিক পণ্যে রূপ নেওয়ার মতো পর্যায়ে না থাকলেও ভবিষ্যতে সেগুলো বড় ধরনের উদ্ভাবনের ভিত্তি হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব ধারণার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে স্টার্টআপ হিসেবে গড়ে তুলতে অর্থায়নের সুযোগও খতিয়ে দেখা হবে।
তরুণদের নতুন ধারণাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থী কার্যকর ও সম্ভাবনাময় ধারণা নিয়ে এগিয়ে এলে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তার পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক মো. নায়েব আলী সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিসিআইসি কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল ড. মো. মোকসেদ আলীসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরে শিল্পমন্ত্রী উদ্ভাবনী মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজ নেন।
আরো জানতে ----সরকারি প্রকল্পে ওভারল্যাপিং বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর যাচাইয়ের পরামর্শ