ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মুহুরী-কহুয়া বাঁধ
ফেনী প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় ফেনীতে বাস্তবায়নাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজ নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মুহুরী-কহুয়া বাঁধ চালু হলে ফেনীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করবে। প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ প্রকল্পের লক্ষ্য পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত করা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগরের ঘাটঘরে প্রকল্পের উদ্বোধনস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই অভিজ্ঞতার পর বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসনের পাশাপাশি নদী ও জলাধার পুনঃখনন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের মতো কাজ রয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী তীরবর্তী এলাকার বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বাঁধটি শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণের অবকাঠামো হিসেবে নয়, এলাকার কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, পরশুরামের পর তিনি ফুলগাজীতেও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রয়োজনকে সামনে রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মুহুরী-কহুয়া বাঁধ ফেনীর মানুষের জানমাল রক্ষার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় জীবিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার বানু উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রকল্পের উদ্বোধনস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতি সম্পর্কে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্পটির উদ্বোধনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ফেনীর নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে স্থায়ীভাবে নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।