তিউনিসিয়ায় টানা দ্বিতীয় মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় মাসে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের পদত্যাগ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং কারাবন্দী বিরোধী নেতা, অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘এক ব্যক্তির শাসন’ এবং দেশকে ‘স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়া’র বিরোধিতা করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট সাইয়েদের শাসনে তিউনিসিয়ার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিটি গত ২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা। ২০২১ সালের ওই দিনে সাইয়েদ সরকার বরখাস্ত ও পার্লামেন্ট স্থগিত করেছিলেন। একই বছরের শেষ দিকে তিনি ডিক্রি জারি করে দেশ পরিচালনা শুরু করেন এবং ২০২২ সালে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অধিকারকর্মী উইসেম সঘায়ের রয়টার্সকে বলেন, দেশ ‘সম্পূর্ণ ধসের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বাড়ছে জীবনযাত্রার সংকট
তিউনিসিয়ার মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি সেবার মান কমেছে এবং কিছু মৌলিক পণ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে দেশটির মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ২ শতাংশ। বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্যয় কমাতে সাইয়েদের সরকার সরকারি খাতে নতুন নিয়োগ বন্ধ এবং আমদানি কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা এবং পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ক্ষোভ এখন শুধু সাইয়েদের রাজনৈতিক পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; দৈনন্দিন জীবনের সংকটও মানুষের অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে।
চলতি গ্রীষ্মে উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মতো তিউনিসিয়াতেও বড় ধরনের দাবানল হয়েছে। এতে দুর্বল অবকাঠামো ও জনসেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাইয়েদের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, স্বাধীন নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
কে এই কাইস সাইয়েদ?
৬৮ বছর বয়সী সাইয়েদ একজন স্বতন্ত্র রাজনীতিক ও সাবেক সাংবিধানিক আইনজীবী। ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি তাঁর বিজয়কে ‘বিপ্লবের মতো’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারে তিনি কোনো অর্থ গ্রহণ না করে তিউনিসিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর নির্ভর করেছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ছিল তাঁর প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়।
তিউনিসিয়ার ২০১৪ সালের গণতান্ত্রিক সংবিধানের খসড়া প্রণয়নে আইনি পরামর্শদাতাদের একজন ছিলেন সাইয়েদ। তবে পরে তিনি সংবিধানের বিভিন্ন দিকের সমালোচনা শুরু করেন।
ক্ষমতায় আসার পর তাঁর একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা বাড়ে। বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের নামে এমন একটি নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হয়, যার প্রধান হিসেবে সাইয়েদের আদালতের ওপর নজিরবিহীন প্রভাব তৈরি হয়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ।
রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে গণহারে বিচারও তাঁর সরকারের সময়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা