আদালতের নির্দেশে কারাগার থেকে হাসপাতালে ইমরান খান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পর শুক্রবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে তাঁকে রাজধানী ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তাঁর হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দলটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে একটি স্বাধীন মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও রাখার কথা বলা হয়েছে।
আদালতের এ নির্দেশের আগে সোমবার আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এতে ১০ আগস্ট হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞদের একটি বোর্ডের করা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান খানের রক্তচাপ ওঠানামা করছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের কারণে তাঁর মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হচ্ছিল।
সরকার আদালতের হাসপাতাল স্থানান্তরের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেছিল। তবে কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার তাঁর স্থানান্তরের সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়। পরে সরকারি বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানান, সরকার সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেনে চলবে।
হাসপাতালে কড়া নিরাপত্তা
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সেখানে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গত এক বছর ধরে ইমরানের পরিবার ও তাঁর দল তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগের কথা বারবার জানানো হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে আদালত একই ধরনের দুটি আবেদন খারিজ করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেয়নি। এর একটিতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে একটি মেডিকেল বোর্ড তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছিল।
ইমরান খান ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান। ২০২৩ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে পাওয়া রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর তাঁর ও স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলায় সাজা হয়েছে। ইমরান খান ও তাঁর দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাঁদের দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ইমরানের আইনজীবী উজাইর ভান্ডারি জানিয়েছেন, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর পরবর্তী আদালত শুনানি পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে থাকতে পারেন।
২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারের বাইরে এটিই ইমরান খানের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান হতে পারে। তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় আবারও তাঁর স্বাস্থ্য, চলমান আইনি লড়াই এবং পাকিস্তানের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা