এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমছে

 প্রকাশ: ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে পানির স্তর কমে যাওয়ার আশঙ্কায় সেপ্টেম্বর থেকে জাহাজ চলাচলে সীমা আরোপ করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আগামী মাসের শুরু থেকেই প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক জাহাজকে খালটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুষ্ক আবহাওয়ার আশঙ্কা থেকে পানির মজুত রক্ষায় দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমানো হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৪টি জাহাজ খাল অতিক্রম করতে পারবে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই সংখ্যা আরও কমিয়ে ৩২টিতে নামানো হবে।

চলতি বছর জাহাজ চলাচলে সীমা আরোপের পরিকল্পনা নেই বলে মে মাসে জানিয়েছিল পানামা খাল কর্তৃপক্ষ। গত বছর পানি সংরক্ষণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এবার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে বলে তখন আশা করা হয়েছিল।

বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পানামা খালের ওপর নির্ভরশীল। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারে। জুন থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫টি জাহাজ খালটি ব্যবহার করেছে।

বাড়তে পারে পরিবহন ব্যয়

খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে জলপথটির ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন শিল্পে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২৩ সালে ভয়াবহ খরার কারণে পানামা খালে জাহাজ চলাচল প্রায় ৩৬ শতাংশ কমে যায়। এতে বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল।

ওই বছর পানির স্তর কমে যাওয়ার পেছনে এল নিনোর পাশাপাশি মানব কর্মকাণ্ডের কারণে তীব্রতর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ছিল।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর ঘটে। এ সময় পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে।

এর প্রভাবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কোথাও অতিরিক্ত তাপ ও খরা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও বাড়তে পারে বন্যার ঝুঁকি।

বিজ্ঞানীরা আগামী কয়েক মাসে বিশেষভাবে শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছেন। এটি রেকর্ডের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পানির ওপর নির্ভরশীল খাল

পানামা খালে আগে পানি সংরক্ষণের জন্য জাহাজ চলাচলে সীমা আরোপ করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ক্যারিবীয় সাগর কিংবা বিপরীত পথে চলাচলের সময় লক ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজকে ওঠানো-নামানো হয়।

এই লক ব্যবস্থার জন্য বিপুল পরিমাণ মিঠা পানি প্রয়োজন। খালের পানির জোগানের একটি বড় অংশ আসে আশপাশের হ্রদ ও জলাধার থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গাতুন হ্রদ।

পানামার রাজধানী পানামা সিটিসহ আশপাশের শহরগুলোর বাসিন্দারাও পানীয় জলের জন্য গাতুন হ্রদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে খরার সময় খালের জাহাজ চলাচল এবং মানুষের পানির চাহিদার মধ্যে চাপ আরও বেড়ে যায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement