সেউতায় নতুন ঢল ঠেকাতে সীমান্তে মরক্কোর কড়াকড়ি

 প্রকাশ: ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

সেউতায় নতুন ঢল ঠেকাতে সীমান্তে মরক্কোর কড়াকড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

স্পেনের নিয়ন্ত্রিত সেউতা শহরে আবারও ব্যাপকভাবে প্রবেশের সম্ভাব্য চেষ্টা ঠেকাতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে মরক্কো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে নতুন করে প্রচারণা চালানোর পর বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, স্পেনের নিয়ন্ত্রিত সেউতা ও মেলিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। অনলাইনে অবৈধভাবে অভিবাসনে উৎসাহ দেওয়া পোস্ট ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো একটি প্রচারণার পর সেউতায় ব্যাপকভাবে প্রবেশের চেষ্টা হয়েছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে নতুন করে অনলাইনে নানা পোস্ট ছড়াচ্ছে। এসব পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ১৫ আগস্ট স্পেনের সরকারি ছুটির দিনে মরক্কোর ফনিদেক শহর ও সেউতার মধ্যকার সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে।

মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেউতার দিকে ‘সম্মিলিত ও অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা সংগঠিত করতে উসকানি দেওয়া’ বিভিন্ন প্রকাশনা ও বেনামি বার্তা তাদের নজরে এসেছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রশিদ এল খালফি বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সব চেষ্টা ঠেকাতে এবং এতে অংশ নেওয়ার জন্য যারা আসবে, তাদের আটকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একদল ব্যক্তিকে তদন্তের জন্য তলব করা হয়েছে বলেও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমএপি জানিয়েছে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো থেকে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করেন। তাঁদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে সেখানে পৌঁছান।

এর পর ৭ আগস্ট সীমান্তে মানুষ পরিবহনের অভিযোগে মরক্কোর সাতজন ট্যাক্সিচালককে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ১ হাজার ৭০ ডলার করে জরিমানাও করা হয়।

দেশটির জাতীয় ট্যাক্সি ইউনিয়ন এই সাজাকে কঠোর ও অপ্রত্যাশিত বলে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত জারি করা হয়নি।

সেউতায় প্রবেশ করা মানুষের বেশির ভাগকেই পরে স্থানীয় ও স্পেনের নিরাপত্তা বাহিনী মরক্কোতে ফেরত পাঠিয়েছে। তবে সেউতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উত্তর আফ্রিকার এই স্পেন-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে এখনো প্রায় ২ হাজার মানুষ রয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ হাজারই অপ্রাপ্তবয়স্ক। স্পেনের আইনে তাদের জোর করে ফেরত পাঠানো যায় না। মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পেনের কর্তৃপক্ষকে এসব শিশুকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জুলাইয়ের সংকটের পর মরক্কোর কর্তৃপক্ষ ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে। স্পেনের হিসাবে, ওই ঘটনায় অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকার সংগঠন মরোক্কান অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৪১ জন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement