ট্রাম্প প্রশাসনের মামলায় এসপিএলসি বিশেষজ্ঞ গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের উগ্র ডানপন্থী সংগঠন নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট গবেষক হেইডি বেইরিশের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দাতাদের দেওয়া অর্থ গোপনে তথ্যদাতাদের পরিশোধে ব্যবহারের অভিযোগে বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
৫৯ বছর বয়সী বেইরিশ আলাবামার মন্টগোমেরিভিত্তিক নাগরিক অধিকার সংগঠন সাদার্ন পোভার্টি ল’ সেন্টারের (এসপিএলসি) সাবেক গোয়েন্দা পরিচালক। সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের উগ্র ডানপন্থী ও ঘৃণাভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো পর্যবেক্ষণ করে।
বুধবার মার্কিন বিচার বিভাগ বেইরিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি এসপিএলসির বিরুদ্ধে চলমান মামলায় নতুন অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সংগঠনটির বিরুদ্ধে দাতাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনেছে। এ মামলায় এর আগে এপ্রিলে প্রাথমিক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, বেইরিশের বিরুদ্ধে তারবার্তা ব্যবহার করে প্রতারণা, ব্যাংকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্যাটেল বলেন, এসপিএলসির বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের কেন্দ্রে ছিলেন বেইরিশ। তাঁর অভিযোগ, এসপিএলসি দাতাদের এমন ধারণা দিয়েছিল যে তাঁদের অর্থ সহিংস উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো ভেঙে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ সেই অর্থের একটি অংশ এসব সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। এসপিএলসি দীর্ঘদিন ধরে এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের উগ্র ডানপন্থী ও কথিত ঘৃণাভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছে। রক্ষণশীল মহলও দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটিকে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে সমালোচনা করে আসছে।
এসপিএলসির ঘোষিত লক্ষ্য হলো শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং একটি বহুজাতিক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। সংগঠনটি টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মতো রক্ষণশীল সংগঠনের সমালোচনাও করেছে এবং এটিকে ‘হার্ড রাইট’-এর একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বেইরিশের আইনজীবী মাইকেল প্রক্টর তাঁর মক্কেলকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উগ্রপন্থী ও ঘৃণাভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো ভেঙে দেওয়ার কাজে বেইরিশের কয়েক দশকের সাফল্যের জন্যই তাঁকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রক্টর বলেন, একটি মুক্ত ও ন্যায়সংগত সমাজে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নীরব করতে বিচারব্যবস্থা ব্যবহার করা উচিত নয়।
নতুন অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এসপিএলসি ও বেইরিশ মিলে ৪০ লাখ ডলারের বেশি অনুদানের অর্থ ‘বিভিন্ন সহিংস উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের’ কাছে পাঠিয়েছেন। বিচার বিভাগের দাবি, এ ধরনের অর্থ লেনদেন প্রতারণার শামিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের অভিযোগ, বেইরিশ এসপিএলসির এমন একটি ব্যবস্থার অংশ ছিলেন, যেখানে সম্পূর্ণ কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং প্রকৃত কারণ গোপন করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এসপিএলসি স্বীকার করেছে, অতীতে তারা কু ক্লাক্স ক্ল্যান এবং ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট পার্টি অব আমেরিকার মতো ঘৃণাভিত্তিক গোষ্ঠী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে গোপন তথ্যদাতা ব্যবহার করেছিল। তবে সংগঠনটির দাবি, এখন তারা এ ধরনের পদ্ধতি আর ব্যবহার করে না।
এসপিএলসি আরও জানিয়েছে, তথ্যদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হতো।
বেইরিশের আইনজীবী প্রক্টর বলেন, এসপিএলসিতে দায়িত্ব পালনের সময় সহিংস উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেও বেইরিশ কখনো তাঁদের ভয় বা হুমকিতে থেমে যাননি। সরকারের ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগেও তিনি নীরব হবেন না বলে দাবি করেন তাঁর আইনজীবী।
সূত্র: আলজাজিরা