মাস শেষে হোয়াইট হাউস ছাড়ছেন কারোলিন লেভিট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মাসের শেষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন কারোলিন লেভিট। পরিবারকে আরও সময় দিতে তিনি এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেভিটের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে লেভিট ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মুক্তির পক্ষে হোয়াইট হাউসে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দায়িত্বে অসাধারণ কাজ করেছেন।
ট্রাম্প জানান, দায়িত্ব ছাড়ার পরও লেভিট তাঁর ‘শীর্ষস্থানীয় বাইরের পরামর্শদাতাদের’ একজন হিসেবে কাজ করবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও তিনি প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে সক্রিয় থাকবেন।
লেভিটের এই সিদ্ধান্ত এসেছে তাঁর মাতৃত্বকালীন ছুটির পর। মে মাসের শুরুতে স্বামী নিকোলাস রিচিওর সঙ্গে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান, কন্যা ভিভিয়ানা জন্ম নেয়। ২৭ বছর বয়সী লেভিট এপ্রিলের শেষ দিকে প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরতিতে যান। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তিনি হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে ফিরে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেভিটকে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে উল্লেখ করেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ‘চূড়ান্ত বিজয়’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি প্রশাসনকে সহায়তা করে যাবেন বলেও জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব ছাড়তে যাওয়া জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তালিকায় লেভিট সর্বশেষ নাম। চলতি বছর সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এবং সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শ্রমমন্ত্রী লরি মিশেল শ্যাভেজ-ডেরেমার এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টড লায়নসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
ট্রাম্পের রাজনীতিতে লেভিটের ভূমিকা অবশ্য নতুন নয়। প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল করেসপন্ডেন্স কার্যালয়ে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। পরে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হন।
২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজিত হওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে লেভিটের রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকে। তিনি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের নামে গঠিত সুপার প্যাক এমএজিএ ইনকের যোগাযোগ বিভাগে কাজ করেন। ২০২১ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রথম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে জয় পেলেও ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও বর্তমান প্রতিনিধি ক্রিস পাপাসের কাছে হেরে যান লেভিট।
২০২৪ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু করলে লেভিট তাঁর প্রচারের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মাত্র ২৭ বছর বয়সে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হন তিনি। এ পদে দায়িত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী।
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে লেভিটের আচরণকে প্রায়ই ‘আক্রমণাত্মক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর তর্ক-বিতর্কও আলোচনায় এসেছে।
তাঁর সময়ে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে ব্লগার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদেরও প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। লেভিট প্রায়ই দিনের প্রথম প্রশ্নের সুযোগ ‘নিউ মিডিয়া’ প্রতিনিধিকে দিতেন। সমালোচকেরা অবশ্য অভিযোগ করেছেন, এই সুযোগ অনেক সময় ডানপন্থী কনটেন্ট নির্মাতারাই পেয়েছেন।
লেভিট এই পরিবর্তনকে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের নতুনধারার গণমাধ্যম কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর প্রথম ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্পের প্রচারে পডকাস্টসহ বিভিন্ন নতুন মাধ্যম ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় হোয়াইট হাউস শুধু প্রচলিত গণমাধ্যম নয়, সব ধরনের সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কথা বলবে।
মূলধারার সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট-এমন অভিযোগও লেভিট নিয়মিত সমর্থন করেছেন। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সাংবাদিকদের নির্বাহী শাখায় প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করেছে।
গত বছরের অক্টোবরে হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের লেভিটের কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রবেশ সীমিত করার নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছিল। ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নাম ব্যবহারের বিরোধকে কেন্দ্র করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদেরও কয়েকটি প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সমালোচকেরা এসব পদক্ষেপকে সরকারি স্বচ্ছতা ও সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখেছেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত একমাত্র লেভিটই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁর প্রথম মেয়াদে এই পদে চারজন দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন শন স্পাইসার ও বর্তমানে আরকানসাসের গভর্নর সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স।
সূত্র: আলজাজিরা