জনগণের কাছে যাবেন জনপ্রতিনিধিরাই -প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
ঢাকা, ২৮ শ্রাবণ (১২ আগস্ট):
জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ। নির্বাচনি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, প্রত্যাশা, মতামত ও সম্ভাবনার কথা সরাসরি জানার লক্ষ্যে তিনি এবার আনুষ্ঠানিক সভা কিংবা কার্যালয়ে নয়, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের আমন্ত্রণে তাদের নিজ বাড়িতে গিয়ে চায়ের আড্ডায় অংশ নেবেন।
‘মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা’ শিরোনামে নেওয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার মানুষের সঙ্গে সহজ ও অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এক কাপ চায়ের আড্ডায় এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনার পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করবেন প্রতিমন্ত্রী।
এ কর্মসূচির বিশেষ দিক হলো—জনগণকে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়ার পরিবর্তে জনপ্রতিনিধিই জনগণের কাছে পৌঁছে যাবেন। ঢাকা-১৩ আসনের বাসিন্দারা অনলাইনে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজ বাড়িতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চায়ের আড্ডায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে নির্বাচনি এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তব সমস্যা ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতা কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি হবে।
এ উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু সংসদে বক্তব্য দেওয়া কিংবা কার্যালয়ে বসে মানুষের কথা শোনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। জনগণের কাছে গিয়ে তাদের জীবনযাপন, সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে সরাসরি জানার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে এক কাপ চায়ের আড্ডায় এমন অনেক বিষয় উঠে আসতে পারে, যা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সহজে বলা সম্ভব হয় না। নির্বাচনি এলাকার মানুষের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ঢাকা-১৩-কে আরও বাসযোগ্য, আধুনিক ও জনবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
‘চায়ের আড্ডা’ কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে সরাসরি বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা, জননিরাপত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থানসহ স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি এলাকার সম্ভাবনাময় উদ্যোগ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নাগরিকদের নতুন নতুন প্রস্তাব সম্পর্কেও মতামত নেবেন তিনি।
এ ধরনের সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে আরও কার্যকরভাবে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।