আসাদ ও ভাইকে মৃত্যুদণ্ড, সিরিয়ায় নজিরবিহীন রায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তাঁর ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এই রায় দেন।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের প্রায় ২০ মাস পর এটাই বাশার আল-আসাদ বা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় দেওয়া প্রথম দণ্ড। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের বিদ্রোহী অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাশার ও মাহের রাশিয়ায় পালিয়ে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় পান।
আদালতে বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, বাশার আল-আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেছেন। মামলায় হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও নির্বিচারে আটকের মতো অভিযোগও আনা হয়েছিল।
একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন বাশারের মাতুলাতো ভাই আতেফ নাজিব। ২০১১ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকা ছিল। নাজিবকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় কারাগারের পোশাক পরে তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় রাখা হয়।
দারায় সরকারবিরোধী দেয়াললিখনের অভিযোগে একদল কিশোরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন সেই আন্দোলনকে বিস্তৃত সংঘাতে রূপ দেয়। ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ প্রায় ১৪ বছর স্থায়ী হয় এবং এতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হন।
নাজিব ২০১১ সালে দারা প্রদেশে সিরিয়ার রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন। তিনি সাবেক সিরীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও ২০১১ সালের এপ্রিলে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
বাশার আল-আসাদ ২০০০ সালে তাঁর বাবা হাফেজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। ২০২৪ সালের বিদ্রোহী অভিযানে তাঁর সরকার পতনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে আসাদ পরিবারের প্রায় পাঁচ দশকের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর বাশার ও মাহের রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ তাদের হস্তান্তরের জন্য রাশিয়ার কাছে অনুরোধ করেছে।
মাহের আল-আসাদ সাবেক সিরীয় সেনাবাহিনীর চতুর্থ সাঁজোয়া ডিভিশনের কমান্ডার ছিলেন। বিরোধী কর্মীরা ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং মাদক পাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন
বাশার ও মাহের অনুপস্থিতিতে দেওয়া এই রায় কার্যকর করতে তাদের রাশিয়া থেকে সিরিয়ায় ফিরিয়ে আনা এখন বড় প্রশ্ন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় তাদের প্রত্যর্পণের সম্ভাবনাকে আরও জটিল করতে পারে।
তবে সিরিয়ায় বহু বছর ধরে চলা সহিংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।