সংবাদ শিরোনাম

ইরান অবরোধ ভাঙতে চাওয়ায় জাহাজে মার্কিন হামলা

 প্রকাশ: ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরান অবরোধ ভাঙতে চাওয়ায় জাহাজে মার্কিন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করার অভিযোগে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবারের হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ লক্ষ্য করে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে জাহাজটির স্টিয়ারিং ব্যবস্থা অচল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকম জানিয়েছে, ‘ভেলা নোভা’ নামের জাহাজটি ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও জাহাজটির নাবিকেরা তা উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলায় কোনো নাবিক আহত হয়েছেন কি না, তা জানায়নি সেন্টকম।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্টকম মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ। এতে স্টিয়ারিং ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর চলমান অবরোধের সময় এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অচল করেছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজকে ‘নির্দেশ না মানা জাহাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

থমকে আছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি

মঙ্গলবারের হামলা এমন সময়ে হলো, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ আপাতত তুলনামূলক শান্ত রয়েছে। জুলাইয়ে ১৩ দিনের তীব্র সংঘাতের পর থেকে হামলার মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে।

এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পথ খোলার কথা ছিল। পরে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ায় আবারও উত্তেজনা বাড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতায় ফেরার চেষ্টা খুব একটা এগোয়নি। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে বলেন, গত ৫০ বছরের ক্ষতির জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে।

ইরানও সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে পুনর্গঠনে অর্থায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। জুনের সমঝোতায় এ উদ্দেশ্যে ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল।

হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা

যুদ্ধের মধ্যে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে। জুনের সমঝোতার আওতায় এই দুই ব্যবস্থাই সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত জীবাশ্ম জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত।

ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন পথ নির্ধারণের চেষ্টা করছে। তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আচরণ পরিবর্তন করে ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত প্রণালিটি খুলবে না। ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেও সেটি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার বিষয় থেকে আলাদা থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের মধ্যস্থতায় নতুন করে তৎপর হয়েছে পাকিস্তান। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি মঙ্গলবার তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের মধ্য দিয়ে চলমান যুদ্ধ অবসানে বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের আরেক দফা চেষ্টা শুরু হয়েছে।

সংঘাতের জটিলতা আরও বাড়িয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের জাহাজে হামলা। তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের বাণিজ্যের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

সূত্র:আলজাজিরা