ওমানে বিপুল তেল ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে পরিবেশঝুঁকি

 প্রকাশ: ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ওমানে বিপুল তেল ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে পরিবেশঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ওমানের দক্ষিণ উপকূলে আটকে থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ব্যাপক তেল ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় এক মাস ধরে সাগরে আটকে থাকা জাহাজটি থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ।

সোমবার কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী তেলের আস্তরণ উপকূল থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে। ছড়িয়ে পড়া তেল দেশটির সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করেছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস গত সপ্তাহে স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছিল, তেলের আস্তরণ প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের ট্যাংকারটি গত এপ্রিলে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে তেল নিয়ে যাত্রা করে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ দিকে এটি সুয়েজ খাল অতিক্রম করে।

এএফপির এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুনের শুরু থেকে জাহাজটি ওমানের আল-কিবলিয়াহ দ্বীপের কাছে আটকে রয়েছে। জাহাজটিতে বিস্ফোরণের পর সেটির কয়েকটি অংশে পানি ঢুকে পড়ে বলে জানা গেছে।

তেল ছড়িয়ে পড়ার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ওমানের হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জ। গত বছর দেশটির সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদ এই এলাকায় একটি সামুদ্রিক সংরক্ষণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেন। বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপসহ নানা প্রজাতির প্রাণী ও সংবেদনশীল সামুদ্রিক প্রতিবেশ রক্ষায় অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ।

ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে প্রবালপ্রাচীর, কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, সামুদ্রিক আবাসস্থল ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা তেলের দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওমান নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ডুবুরিও পাঠানো হয়েছে।

জাহাজটিতে থাকা তেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরির প্রাথমিক কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনাজনিত ঝুঁকি কমানো, নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে তেল ছড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো শনাক্ত করতে পারেনি ওমানের কর্তৃপক্ষ।গ্রিনপিস ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক শান্তি সংগঠন প্যাক্স এএফপিকে জানিয়েছে, পরিস্থিতি বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তাদের দাবি, ট্যাংকারটিতে এশিয়ার উদ্দেশে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।

‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’কে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল রপ্তানি চালু রাখতে মস্কো এই বহর ব্যবহার করে। এসব জাহাজ বিভিন্ন দেশের পতাকা ব্যবহার করে চলাচল করে, যাতে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা যায়।

এই বহরের অনেক জাহাজই পুরোনো। এসব জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

ক্যারোলিন বেজেঙ্গির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সুইজারল্যান্ড নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজগুলোও বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement