তুরস্কে হাজারো পিকেকে সদস্যকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা

 প্রকাশ: ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তুরস্কে হাজারো পিকেকে সদস্যকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তুরস্কের পার্লামেন্ট নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি-পিকেকে’র হাজারো সদস্যকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দেওয়ার সুযোগ রেখে একটি আইন অনুমোদন করেছে। কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানের পথে এটিকে বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার আইনটি ৪৬৮-৮৮ ভোটে পাস হয়। ছয়জন আইনপ্রণেতা ভোটদানে বিরত ছিলেন। নতুন আইনে অস্ত্র সমর্পণকারী পিকেকে সদস্যদের একটি অংশকে শর্তসাপেক্ষে বেসামরিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ ক্ষমা নয়।

সংঘাত অবসানে এটি তুরস্কের প্রথম আইনগত উদ্যোগ। পিকেকে’র কারাবন্দী প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওজালান অনুসারীদের অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানানোর প্রায় ১৮ মাস পর পার্লামেন্টে আইনটি পাস হলো।

তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিকেকে’কে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ১৯৮৪ সালে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে সংগঠনটি। এরপর সংঘাতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

দীর্ঘ এই সংঘাত তুরস্কের প্রধানত কুর্দি অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনও গভীর হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি-একে পার্টি এবং কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টির সমর্থনে বিলটি পাস হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে মামলা পরিচালনা ও কারাদণ্ড পাঁচ থেকে ১০ বছরের জন্য স্থগিত রাখা হবে। এর আওতায় কারা সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অস্ত্র ত্যাগ ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে।

আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পিকেকে-সংশ্লিষ্ট বন্দি মুক্তি পেতে পারেন। তুরস্কের কারাগারে আটক পিকেকে-সংশ্লিষ্ট বন্দিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুরস্কে কয়েক দশকের সংঘাত অবসানে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইনটি পূর্ণ সাধারণ ক্ষমা না দিয়ে অস্ত্র ত্যাগ ও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর জোর দিয়েছে।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement