সংবাদ শিরোনাম

রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো নির্বাচনে নিষিদ্ধ

 প্রকাশ: ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো নির্বাচনে নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের বিরোধিতা করা একমাত্র নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ইয়াবলোকোকে আগামী মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার আদালত ক্রেমলিনপন্থী জাতীয়তাবাদী দল রোদিনার করা একটি আবেদন মঞ্জুর করে ইয়াবলোকোর নির্বাচনী নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ দেন। এর ফলে সাড়ে চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ থেকে রুশ ভোটারদের একটি অংশ বঞ্চিত হলো।

গত মাসে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ইয়াবলোকোসহ ১১টি দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু রোদিনা পরে ইয়াবলোকোর প্রার্থীদের তালিকার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করে।

আদালতে বিচারক ভিয়াচেস্লাভ কিরিলভ বলেন, ইয়াবলোকোর মনোনীত প্রার্থীদের তালিকার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।

রোদিনার অভিযোগ, ইয়াবলোকো নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি, বিশেষ করে পশ্চিমা উৎস থেকে গোপন সহায়তা পেয়েছে। তবে ইয়াবলোকো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দিনভর চলা শুনানিতে দলটির নেতা নিকোলাই রিবাকভ বলেন, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে এই মামলাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অসাংবিধানিক আক্রমণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রায়ের পর মস্কোর আদালত ভবনের বাইরে ইয়াবলোকোর প্রায় ১০০ সমর্থক জড়ো হন। তাদের বেশির ভাগই তরুণ। পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল। রায় ঘোষণার পর সমর্থকেরা ‘লজ্জা! লজ্জা!’ স্লোগান দেন। কেউ কেউ হাতে আপেল নিয়ে ছিলেন-রুশ ভাষায় ‘ইয়াবলোকো’ শব্দের অর্থ আপেল।

সমর্থকদের উদ্দেশে রিবাকভ বলেন, দলটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অধিকাংশ রাজনৈতিক বিরোধী কারাগারে, নির্বাসনে অথবা মৃত। এই পরিস্থিতিতে ইয়াবলোকোই দেশটিতে সক্রিয় থাকা একমাত্র উদারপন্থী রাজনৈতিক দল।

বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন রুশ বিরোধী নেতাও দলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া। রাশিয়ায় নাভালনি ও তাঁর স্ত্রী—দুজনকেই ‘চরমপন্থী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে করা একটি জনমত জরিপে ইয়াবলোকোর প্রতি সমর্থন ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমায় আসন পেতে অন্তত ৫ শতাংশ ভোট প্রয়োজন।

২০০৩ সালের পর থেকে ইয়াবলোকো আর স্টেট ডুমায় কোনো আসন জিততে পারেনি। এরপর অনুষ্ঠিত প্রতিটি পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সমর্থক ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া জয় পেয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগও এখন পর্যন্ত সফল হয়নি। যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন কঠোর ভূখণ্ডগত দাবি জানিয়ে আসছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেছেন।

তবে স্বাধীন জনমত জরিপগুলো বলছে, অধিকাংশ রুশ নাগরিক ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চায়।

সূত্র:আলজাজিরা