হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি চলাচল ঠেকাতে বিল ইরানে

 প্রকাশ: ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি চলাচল ঠেকাতে বিল ইরানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত বিল নিয়ে এগোচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের শত্রু হিসেবে বিবেচিত অন্যান্য দেশের সম্পদ ও সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও কাউন্সিলবিষয়ক কমিটি বিলটির একটি ধারা অনুমোদন করেছে। পার্লামেন্টের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইসিএএনএর বরাতে কমিটির মুখপাত্র ভ্যালিওল্লাহ বায়াতি এ তথ্য জানিয়েছেন।

‘হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৌশলগত পদক্ষেপ’ নামের প্রস্তাবিত বিলটির বিস্তারিত পর্যালোচনা শুরু হওয়ার পর অনুমোদিত প্রথম পাঁচটি ধারার একটি হলো এই নিষেধাজ্ঞা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী ও পার্লামেন্টের গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বায়াতি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড ও হামলা’ চালিয়েছে-এ কারণেই তাদের সম্পদ ও সরঞ্জামের চলাচল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলের বাকি ধারাগুলো পরবর্তী বৈঠকগুলোতে পর্যালোচনা করা হবে।

জাহাজ চলাচলে আরও বিধিনিষেধ

প্রস্তাবিত আইনে তেহরান যেসব দেশকে শত্রুভাবাপন্ন মনে করে, সেসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের চলাচলের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

পার্লামেন্ট সদস্য সোদেইফ বাদরি জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে দেওয়া সামুদ্রিক সেবার জন্য ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। এসব অর্থ নিরাপত্তা, নজরদারি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

বাদরি বলেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় অস্থায়ী নীতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে চাইছে পার্লামেন্ট। যুদ্ধের আগে হরমুজে যে পরিস্থিতি ছিল, তা আর ফিরে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। কমিটিতে অনুমোদিত ধারাগুলো কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

যুদ্ধের পর গতি বেড়েছে

পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটি রোববার কোনো সদস্যের বিরোধিতা ছাড়াই বিলটির মূল কাঠামো অনুমোদন করে। কমিটির মুখপাত্র হাসান ঘাশঘাভি এ তথ্য জানিয়েছেন।

পার্লামেন্টের নির্মাণবিষয়ক কমিটিও বিলটির মূল কাঠামোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিষয় ও কাউন্সিলবিষয়ক কমিটি বিলটির বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করছে।

যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টে তৎপরতা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সংঘাতে প্রণালিটিকে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা।

গত ১৩ জুলাই বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টে জমা দেওয়া হয়। পরদিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান তার ‘লাল রেখা’ থেকে সরে আসবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি বলেন, ‘এটি প্রথম পদক্ষেপ।’ এরপর নেওয়া আরও কিছু পদক্ষেপ ‘আমাদের শত্রুদের ঘুম কেড়ে নেবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ১২টি আলাদা প্রস্তাব একীভূত করে একটি বিল তৈরির জন্য আজিজির নেতৃত্বাধীন কমিটিতে পাঠানো হয়। পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়াম বোর্ডের মুখপাত্র আব্বাস গৌদারজি জানিয়েছেন, এর মধ্যে নয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি নিয়ে এবং তিনটি ইরানের সামুদ্রিক অঞ্চলসংক্রান্ত আইনে পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে ছিল।

এসব প্রস্তাবে নৌযান চলাচলে বিধিনিষেধ, আইন লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের বিষয় রয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ যেত।

ফলে যুদ্ধকালীন নিয়ন্ত্রণকে দীর্ঘমেয়াদি আইনি কাঠামোয় রূপ দেওয়ার ইরানি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ চলাচলে এর প্রভাব পড়তে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement