বিক্ষোভ দমনের সেই তাইয়েব আবার বাসিজপ্রধান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা হোসেইন তাইয়েবকে বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান নিয়োগ করেছেন। একই সঙ্গে বাহিনীর তৃণমূল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার জারি করা নিয়োগ আদেশে খামেনি তাইয়েবকে ‘জনগণভিত্তিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী’, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নত এবং শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এই নির্দেশনায় বাসিজের দায়িত্বের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থলসহ সমাজের নানা স্তরে বাসিজের শাখা রয়েছে।
তাইয়েবের নিয়োগের মধ্য দিয়ে মোজতবা খামেনি এমন একজন কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরিয়ে আনলেন, যিনি ইরানে ভিন্নমত ও বিক্ষোভ দমনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনসমাবেশ সংগঠনের অন্যতম প্রধান কাঠামো বাসিজ।
২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনে ছিলেন সামনে
২০০৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিলে তা দমনে বাসিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই সময় বাহিনীটির নেতৃত্বে ছিলেন তাইয়েব।
ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চার দশকেরও বেশি সময়ের।
১৯৬৩ সালে তেহরানে জন্ম নেওয়া এই ধর্মীয় নেতা ১৯৮২ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসিতে যোগ দেন। তেহরান, কোম ও খোরাসানে আইআরজিসির বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনের পর তিনি গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন এবং সেখানে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে ওঠেন।
গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ে পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রমেও কাজ করেছেন তিনি। পরে আইআরজিসির নিজস্ব গোয়েন্দা সুরক্ষা কাঠামোর নেতৃত্ব দেন।
এক দশকের বেশি আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধান
সোমবারের নিয়োগের মাধ্যমে তাইয়েব আবারও সেই বাসিজের নেতৃত্বে ফিরলেন, যার কমান্ড তিনি আগে সামলেছেন।
মোজতবা খামেনির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত তাইয়েব ২০০৮ সালে বাসিজ রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের কমান্ডার হন। ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-পরবর্তী ব্যাপক বিক্ষোভের পর একই বছরের অক্টোবরে তাঁকে সদ্য প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান করা হয়।
এরপর এক দশকেরও বেশি সময় তিনি আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্ব দেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন তিনি।
তাঁর নেতৃত্বে আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থা একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যা গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কাজ করত। রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি ও কথিত গুপ্তচরবৃত্তির বিভিন্ন মামলায় সংস্থাটির সম্পৃক্ততা ছিল।
বাসিজের পরিধি বাড়ানোর নির্দেশ
খামেনির নতুন আদেশে ‘প্রতিটি ইরানি, একজন বাসিজি’ স্লোগানের আওতায় বাসিজের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন পেশা বা খাতভিত্তিক ইউনিট বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা এবং মসজিদকেন্দ্রিক সামাজিক সেবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দায়িত্বও তাইয়েবকে দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি দেশের বাইরে বাসিজের ‘জনগণভিত্তিক প্রতিরোধ’-এর মডেল ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও তাঁকে ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।
তাইয়েব গুলামরেজা সোলেইমানির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে সোলেইমানি নিহত হন।
নতুন দায়িত্বে তাইয়েবের সামনে বাসিজের সাংগঠনিক বিস্তার ও সামাজিক উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।