৬২ প্রাণহানির দুই বছর পর: ব্রাজিলে Voepass বিমান দুর্ঘটনায় ১৬ জন অভিযুক্ত
শাহনুর রুমেন | সাও পাওলো (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে ভয়াবহ Voepass বিমান দুর্ঘটনার প্রায় দুই বছর পর নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ২০২৪ সালের ওই দুর্ঘটনায় ৬২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিমান সংস্থাটির বর্তমান ও সাবেক ১৬ জন কর্মীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট Voepass-এর ATR 72-500 বিমানটি পারানার কাসকাভেল থেকে সাও পাওলোর গুয়ারুলহোস বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে সাও পাওলো রাজ্যের ভিনহেদো শহরে বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা ৫৮ যাত্রী ও চার ক্রুসহ সব ৬২ জনই নিহত হন।
দুই বছর ধরে চলা তদন্তে বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার দিন বিমানটিকে তীব্র বরফ জমার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই দিনে বিমানটির de-icing ব্যবস্থায় ত্রুটিও দেখা দিয়েছিল।
অভিযুক্তদের মধ্যে Voepass-এর মালিক ও প্রেসিডেন্ট José Luiz Felicio Filho-ও রয়েছেন। পুলিশের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অবহেলা, কারিগরি ত্রুটি গোপন রাখা এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার মতো কর্মকাণ্ড।
তবে পুলিশের এই পদক্ষেপের পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা শুরু হচ্ছে না। এখন ব্রাজিলের ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস তদন্তের তথ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবে।
পুলিশ একই সঙ্গে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ANAC-এর ভূমিকা নিয়েও আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে। ফলে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার দায় শুধু বিমান সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটিও এখন আলোচনায় এসেছে।