সংবাদ শিরোনাম

ওকিনাওয়ায় টাইফুন ‘ডলফিনের’ তাণ্ডব, চীনের উপকূলে বাড়ছে শঙ্কা

 প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ওকিনাওয়ায় টাইফুন ‘ডলফিনের’ তাণ্ডব, চীনের উপকূলে বাড়ছে শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ আঘাত হানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের তীব্রতায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং জাপানের দুই অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝড়টি চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় সেখানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) ওকিনাওয়ায় আঘাত হানা টাইফুনটির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতি উঠেছিল ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত। প্রবল বাতাস ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে মানুষ আহত হন।

জাপানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওকিনাওয়ায় পাঁচজন বয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন প্রবল বাতাসের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তবে আহত কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। কাগাশিমা এলাকাতেও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ের কারণে কাগাশিমায় প্রায় ৩৯ হাজার এবং ওকিনাওয়ায় ১২ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে দেশটির বড় দুই বিমান সংস্থাএএনএ ও জাপান এয়ারলাইন্সওকিনাওয়াগামী এবং সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ‘ডলফিন’

জাপান পেরিয়ে টাইফুন ‘ডলফিন’ এখন চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে এটি চীনের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

ঝড় মোকাবিলায় চীনা কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জোরদার করেছে। টাইফুনটিকে ‘অরেঞ্জ’ সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে, যা দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর। সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও বাড়ানো হয়েছে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র বলছে, ঝড়টি ঝেজিয়াংয়ের ঝৌশান ও ফুজিয়ানের ফুডিংয়ের মধ্যবর্তী কোনো এলাকায় উপকূলে আঘাত করতে পারে। সে সময় ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৮ থেকে ৪৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

বন্ধ হচ্ছে বন্দর-ফেরি, বাতিল ফ্লাইট

ঝড়ের প্রভাবে পূর্ব চীনে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ঝেজিয়াংয়ের কয়েকটি এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ঝেজিয়াংয়ে উপকূলীয় টাইফুন সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৬২টি ফেরি রুট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফুজিয়ানেও ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। রবিবারের সব ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকেও আগেভাগে সব জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইয়াংজি রিভার ডেল্টা অঞ্চলে রবিবার থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানেও ঝড়ের প্রভাব

টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানে ৭৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকলেও শনিবার পর্যন্ত কোনো এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

তবে টাইফুনকে কেন্দ্র করে তাইওয়ান প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে তাইপে।

তাইওয়ানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলের অধিকার সীমিত করার ক্ষমতা চীনের নেই। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে বেইজিং; তবে তাইপে ও যুক্তরাষ্ট্র এই দাবির বিরোধিতা করে আসছে।

সূত্র: রয়টার্স

Advertisement
Advertisement
Advertisement