সংবাদ শিরোনাম

কোরআন প্রতিযোগিতায় রেকর্ড অংশগ্রহণ, নারীদের নতুন আয়োজন

 প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কোরআন প্রতিযোগিতায় রেকর্ড অংশগ্রহণ, নারীদের নতুন আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবে শুরু হয়েছে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার ৪৬তম আসর। বৃহস্পতিবার মক্কায় শুরু হওয়া এবারের প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন, যা প্রায় চার দশক আগে প্রতিযোগিতাটি শুরুর পর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ।

সৌদি বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা বিভাগের আয়োজনে ৬ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতা।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, মুখস্থ করা, অর্থ বোঝা ও কোরআনের শিক্ষা নিয়ে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে তরুণ মুসলিমদের কোরআনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি, নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং কোরআন মুখস্থকারীদের সহায়তায় সৌদি আরবের ভূমিকা তুলে ধরাও এর উদ্দেশ্য।

এবারই প্রথম নারীদের আলাদা আসর

এবারের আয়োজনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নারীদের জন্য পৃথক প্রতিযোগিতা ও সমাপনী অনুষ্ঠান। মক্কার হিলটন কনভেনশন হোটেলে নারীদের প্রতিযোগিতা ও সমাপনী অনুষ্ঠান আলাদাভাবে হবে।

অন্যদিকে পুরুষদের প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মসজিদুল হারামে।

আয়োজকদের মতে, প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়া, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং মুসলিম সমাজে নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতির প্রতিফলন হিসেবেই এবার নারীদের জন্য আলাদা আয়োজন করা হয়েছে।

পাঁচ বিভাগে প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগীরা পাঁচটি বিভাগে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাতটি স্বীকৃত কিরাআত অনুযায়ী পুরো কোরআন মুখস্থ করা; পুরো কোরআন মুখস্থের পাশাপাশি শব্দের ব্যাখ্যা জানা; পুরো কোরআন মুখস্থ করা; ১৫ পারা মুখস্থ করা এবং ধারাবাহিক পাঁচ পারা মুখস্থ করা।

এবার পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য ১০ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল। ডলারে এর পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৭৪ লাখ। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় অঙ্কের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিযোগিতার আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, কারিগরি ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলগুলোর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে মসজিদুল হারামের কাছাকাছি এবং প্রতিযোগিতার ভেন্যুগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারী ও তাঁদের সঙ্গীদের জন্য মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁদের সফরকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দুই পবিত্র মসজিদের সেবায় সৌদি আরবের ভূমিকা তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে আয়োজকদের।

গতবার শীর্ষে চাদ

গত বছর ৪৫তম আসরে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলেন চাদের মোহাম্মদ আদম মোহাম্মদ। তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৫১ ডলার।

দ্বিতীয় হন সৌদি আরবের আনাস বিন মাজিদ আবদুল্লাহ আল-হাজমি। তাঁর পুরস্কারের অর্থ ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৬ ডলার।

তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নাইজেরিয়ার সানুসি বুখারি ইদ্রিস। তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬ হাজার ৫২০ ডলার।