সংবাদ শিরোনাম

হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমান চুক্তি শিগগিরই

 প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমান চুক্তি শিগগিরই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও স্বাভাবিকভাবে তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তা শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে, যার মাধ্যমে প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল পুনরায় চালু হবে।

চুক্তি ঘোষণা করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় প্রতি পাঁচ ব্যারেলের একটি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে শুল্ক আরোপ এবং অনুমতি ছাড়া প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজে হামলা চালানোর পদক্ষেপ নেয়। এতে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়িয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা প্রায় হয়ে এসেছে। তবে প্রতিবারই ইরান আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে। সর্বশেষ উদ্যোগটি দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুথিরাও জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এসব হামলা হয়েছে।

নতুন প্রতিরক্ষা জোট

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে শুক্রবার মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের তিন মিত্রদেশের এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। দেশগুলোর দাবি, এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা।

তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তবে শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা যখন তীব্র, তখনই এই চুক্তি হলো।

এদিকে ইসরায়েল ও ইরানপন্থী শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতও থামানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। লেবাননের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ পর্যবেক্ষণে কোন কোন দেশ সেনা পাঠাতে পারে, সে বিষয়ে লেবানন ও ইসরায়েল একটি সম্ভাব্য দেশের তালিকায় একমত হয়েছে। ওই তালিকা থেকে দেশ বেছে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানে কূটনীতির পক্ষে প্রেসিডেন্ট

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হয়েছিল জুনে সুইজারল্যান্ডে। ওই সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর ১৭ জুন দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের শর্ত নির্ধারণ এবং যুদ্ধবিরতির বিষয় ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানে অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে ৭ জুলাই আবারও সংঘাত শুরু হয়। পরে তা ফের স্থগিত করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড ২৯ জুলাইয়ের পর ইরানে আর কোনো হামলার খবর দেয়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। আলোচনাবিরোধী কট্টরপন্থীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, দেশটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারই যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনাকে সমর্থন করেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরান তার অধিকার আদায় করতে পারলে তাতে আপত্তির কারণ নেই। তাঁর যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীন; অথচ ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে যুদ্ধ করছে না।

তবে ইরানের বেসামরিক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেশটির অন্যান্য ক্ষমতাকেন্দ্র-বিশেষ করে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের-মতপার্থক্য শান্তি প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement