সংবাদ শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমারের নাগরিকদের বহিষ্কারের পথ খুলল

 প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমারের নাগরিকদের বহিষ্কারের পথ খুলল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পথ খুলে দিয়েছে দেশটির দুটি ফেডারেল আদালতের রায়। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দুই দেশের নাগরিকদের দেওয়া সাময়িক সুরক্ষা বাতিল করতে পারবে।

শুক্রবার বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস ও শিকাগো, ইলিনয়ের দুই ফেডারেল বিচারক অভিবাসন অধিকারকর্মীদের শেষ মুহূর্তের আইনি প্রচেষ্টা নাকচ করে দেন। তাঁরা দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস বহাল রাখার আবেদন করেছিলেন।

এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার হাজারো নাগরিকের একই ধরনের সুরক্ষা বাতিলের অনুমতি দিয়েছিল। সর্বশেষ দুই রায়ের ফলে দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সেই পথ আরও পরিষ্কার হলো।

কী এই টিপিএস?

টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস এমন একটি সাময়িক সুরক্ষা, যা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অসাধারণ পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার ঠেকায়। একই সঙ্গে তাঁদের কাজ করার অনুমতিও দেওয়া হয়।

রয়টার্সের হিসাবে, দক্ষিণ সুদানের প্রায় ২৩২ নাগরিক এবং মিয়ানমারের প্রায় ৪ হাজার মানুষ এই সুরক্ষা হারাতে পারেন।

২০২৫ সালের নভেম্বরেই দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। ২০১১ সাল থেকে চলমান সংঘাতের কারণে দক্ষিণ সুদান টিপিএসের আওতায় ছিল।

অন্যদিকে, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদেরও টিপিএস দেওয়া হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন চ্যালেঞ্জ

জুনের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের যুক্তি ছিল, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের টিপিএস বাতিলের আইনগত ক্ষমতা নেই।

তবে বোস্টনের মার্কিন জেলা বিচারক প্যাটি সারিস সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এই যুক্তি মেনে নিলে শুধু টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ক্ষমতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে না; দীর্ঘদিন ধরে এই সুরক্ষা বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিভাগের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

কয়েক ঘণ্টা পর শিকাগোর বিচারক ম্যাথিউ কেনেলিও মিয়ানমারের নাগরিকদের মামলায় একই ধরনের সিদ্ধান্ত দেন।

বহিষ্কারের শঙ্কায় হাজারো মানুষ

অভিবাসন অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, আদালতের রায়ের ফলে টিপিএসধারীরা এখন বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন। চলমান আইনি লড়াইয়ের সময় তাঁদের ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টে’ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও কাজ চালিয়ে যেতে পারছিলেন।

আইনজীবীদের আশঙ্কা, এই সুরক্ষা শেষ হলে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত দুই দেশে তাঁদের ফেরত পাঠানো হতে পারে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল বলেন, সর্বশেষ রায়ের ফলে এখন শুধু ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের উদ্যোগ আদালতের বাধার মুখে রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, এই ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টে’ যত দিন কার্যকর থাকবে, তত দিন মার্কিন জনগণ নির্বাচনে যে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement