সংবাদ শিরোনাম

খনিজ নিরাপত্তায় পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে মার্কিন কোম্পানিগুলো

 প্রকাশ: ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

খনিজ নিরাপত্তায় পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে মার্কিন কোম্পানিগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের খনিজ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে মার্কিন কোম্পানিগুলো। ছোট খনি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন থেকে শুরু করে বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ-সব দিকেই নজর দিচ্ছে তারা।

এক মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাকিস্তানেও এ উদ্যোগের আওতায় বহুপক্ষীয় সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন এবং এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের রেকো ডিক তামা-সোনা প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে অর্থায়নের শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তার এই বক্তব্য আসে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সময়। ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার প্রস্তাবিত পারস্পরিক বাণিজ্য কাঠামোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।

মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানের ছোট খনিগুলো থেকে খনিজ কিনে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব খনিজ জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায়ও যুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে। এর মধ্যে অ্যান্টিমনির বড় মজুদের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও রেকো ডিকের মতো বিশাল আকৃতির মজুদ নেই, তবে দেশটির প্রায় ৬০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মধ্যে বেশ কয়েকটি খনিজ বিমান নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ আধুনিক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, খনিজ খাতে সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চায় এসব খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নিজস্ব শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে।

বর্তমানে পাকিস্তানের খনিজ খাত দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখছে। রেকো ডিক প্রকল্প চালু হলে একাই জিডিপিতে আরও প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ যোগ হতে পারে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, কয়েকটি মার্কিন কোম্পানি ইতোমধ্যে পাকিস্তানের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খনি উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, চুক্তি চূড়ান্ত হলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই ঘোষণা দেবে।

রেকো ডিক প্রকল্প থেমে আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটি এগিয়ে চলছে, তবে প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা ধীরগতিতে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এর অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি এত বড় যে শুরুতে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোনো সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে এমন পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে যেখানে সব দেশের কোম্পানি সমান সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণে পাকিস্তানের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছে ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার মার্কিন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক কোম্পানির জন্য সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো ছাড়া বড় ধরনের বিনিয়োগ আনা কঠিন।

তিনি আরও জানান, ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস পাকিস্তানের ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের সরবরাহ করা খনিজের একটি চালান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে, যা সেখানে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। দুই দেশ এ ধরনের আরও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খনিজ খাতের প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টি কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামাবাদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে চ্যালেঞ্জ বাস্তব, তবে বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে সম্ভাবনাও রয়েছে। শিল্প খাতের মানুষ এসব ঝুঁকি সম্পর্কে জানে এবং সেগুলো মোকাবিলার উপায়ও খুঁজে নেয়।

তিনি চিত্রাল অঞ্চলে অ্যান্টিমনি, ওয়াজিরিস্তানে তামা এবং গিলগিট-বালতিস্তান ও বেলুচিস্তানের অন্যান্য এলাকায় খনিজ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

গত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, সরকারি ভর্তুকি, সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থা ও দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের কারণে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বাজারে চীনের প্রভাব বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আধুনিক অর্থনীতি ও জাতীয় শক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। বিদ্যুৎচালিত গাড়ির ব্যাটারি থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ ও উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ডন

Advertisement
Advertisement
Advertisement