ইসরায়েল নীতিতে ভিন্ন পথে ম্যাককিনির কংগ্রেস জয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ডোনাভান ম্যাককিনি জয় পেয়েছেন। বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ও ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত শ্রী থানেদারকে হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন তিনি।
মিশিগানের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের এই নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে ম্যাককিনি পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। থানেদারের পক্ষে পড়েছে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর বুধবার সকালে তাঁর জয় নিশ্চিত হয়।
ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ম্যাককিনির জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী টি.পি. নাইকোরিয়াক, যিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।
মিশিগানের বর্তমান স্টেট প্রতিনিধি ম্যাককিনি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রচারণার মূল বিষয় ছিল শ্রমিকদের অধিকার, আয় বৈষম্য কমানো, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানো।
ডেট্রয়েট ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটি সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর। ম্যাককিনি নির্বাচনী প্রচারণায় এই এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্বে কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তবে তাঁর প্রচারণায় ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। নিজের নির্বাচনী প্ল্যাটফর্মে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের একটি প্রস্তাব ‘ব্লক দ্য বম্বস অ্যাক্ট’-এ সমর্থনের কথা জানান।
ম্যাককিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ করা, আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। ইসরায়েল অবশ্য গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।
ডেট্রয়েট পাবলিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাককিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর মতে, একদিকে নিজ এলাকার মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে থাকলেও অন্যদিকে বিদেশে অস্ত্র কেনার জন্য বিপুল অর্থ পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ম্যাককিনির পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, মিশিগানের প্রতিনিধি রাশিদা তালিবসহ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতারা।
অন্যদিকে শ্রী থানেদার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জোরদার করেন। ২০২২ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ইসরায়েল সফর করেন এবং পরে ইসরায়েলপন্থী অবস্থান গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে একটি প্রস্তাবের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন।
হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থানেদার ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (DSA)-এর সদস্যপদ ত্যাগ করেন। তিনি ওই সংগঠনের একটি সমাবেশের সমালোচনা করে সেটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেছিলেন।
থানেদারের পক্ষে প্রচারণায় অর্থ সহায়তা দিয়েছিল ইসরায়েলপন্থী লবি এআইপ্যাক (AIPAC)। তবে মিশিগানের এই নির্বাচনী চক্রে এআইপ্যাকের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা ছিল সিনেট প্রাইমারিতে মধ্যপন্থী প্রার্থী হ্যালি স্টিভেনসকে সমর্থন করা। সেখানে সংগঠনটি প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেও প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের কাছে হেরে যায়।