সংবাদ শিরোনাম

ইসরায়েলবিরোধী লরেন্সের জয় মিশিগান ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে

 প্রকাশ: ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলবিরোধী লরেন্সের জয় মিশিগান ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 ফিলিস্তিনপন্থী ও ইসরায়েল সমালোচক হিসেবে পরিচিত উইলিয়াম লরেন্স যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধি পরিষদের প্রাইমারিতে জয় পেয়েছেন। মঙ্গলবারের ভোটে তিনি দুইজন প্রতিষ্ঠিত ঘরানার প্রার্থীকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন।

লরেন্স জলবায়ু আন্দোলনভিত্তিক সংগঠন সানরাইজ মুভমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি জলবায়ু ইস্যুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবেও পরিচিত হয়েছে।

মিশিগানের সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে লরেন্স ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকেন। বুধবার সকাল পর্যন্ত ৯২ শতাংশ ভোট গণনা শেষে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস তাঁর জয় নিশ্চিত করে।

তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিংক এবং সাবেক নেভি সিল ম্যাট মাসডাম। দুজনই মধ্যপন্থী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রচলিত নেতৃত্বের সমর্থন পেয়েছিলেন। তবে তাঁদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় লরেন্স সুবিধা পান।

জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লরেন্স বলেন, মধ্য মিশিগানে তাঁরা যে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, তা নিয়ে তিনি গর্বিত। তাঁর দাবি, এই আন্দোলন ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরামর্শকদের নয়, বরং বিভিন্ন মতের সাধারণ মিশিগানবাসীকে নিয়ে তৈরি হয়েছে।

লরেন্স মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট মনোনীত প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন। এল-সায়েদও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং একই দিনে অনুষ্ঠিত সিনেট প্রাইমারিতে জয় পান।

নিজের প্রচারণায় ফিলিস্তিন ইস্যুকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন লরেন্স। তিনি ইসরায়েলের গাজা অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়া একমাত্র ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ছিলেন। এল-সায়েদের সঙ্গে এক সমাবেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানান।

লরেন্সের প্রচারণায় জলবায়ু নীতি, প্রযুক্তি খাতের ডেটা সেন্টারের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ খাতে অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান বর্তমান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেটের মুখোমুখি হবেন। আসনটি এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে লরেন্সের জয় ডেমোক্র্যাটিক দলের ভেতরে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ কংগ্রেসের কিছু মধ্যপন্থী নেতা তাঁর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর একটি পুরোনো পডকাস্ট মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। সেখানে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট নেতাদের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে করা বক্তব্য হিসেবে।

লরেন্সের প্রচারণা অবশ্য বলেছে, সামরিক সহায়তা কমিয়ে সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয়ের যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা দলীয় বিভাজনের বাইরে ভোটারদের আকৃষ্ট করবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement